ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা পাকিস্তানের, প্রথম ম্যাচেই উড়িয়ে দিয়েছে আফগানিস্তানকে। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েই জয় তুলে নিয়েছে তারা। উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের জয় ৩৯ রানে।

এশিয়া কাপের আগ মুহূর্তে শেষ প্রস্তুতির জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের আয়োজন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গতকাল শুক্রবার রাতে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

শারজা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান করে সালমান আগার দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১ বল বাকি থাকতেই ১৪৩ রানে অলআউট হয় আফগানরা।

অথচ একটা পর্যায়ে এদিন ১১.২ ওভারে ২ উইকেটে ৯৩ তুলে ফেলে আফগানরা। জয়ের জন্য তখন ৫২ বলে প্রয়োজন ৯০ রান। সেখান থেকে জয়ের স্বপ্ন দেখা অমূলক নয়। তবে সব হিসেব বদলে যায় তখনই।

পরের ১৭ বলের মাঝে মাত্র ৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে এলোমেলো হয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। রশিদ খান ব্যাট হাতে পাল্টা ঝড় তুললেও শেষ পর্যন্ত আর জয়ের বন্দরে নোঙর করাতে পারেননি দলকে।

অবশ্য মাত্র তৃতীয় ওভারেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙে, ইব্রাহিম জাদরানকে (৯) ফেরান শাহিন আফ্রিদি। এরপর রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সাদিকউল্লাহ আতাল মিলে দলকে পৌঁছে দেন ৮ ওভারে ৬৮ রানে।

২৭ বলে ৩৮ রান করে আউট হন গুরবাজ। এরপর আতাল ও দারবিশ রাসুলি মিলে ভালোই এগোচ্ছিল আফগানিস্তান। এরপরই খেই হারায় তারা, ১৯ বলে ২৩ করে আউট হন আতাল। রাসুলি করেন ১৩ বলে ২১।

এরপর রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন করিম জানাত ও আজমতুল্লাহ ওমরজাই। ৬ বলে ৩ রানে আউট হন মোহাম্মদ নবি। ১৪.১ ওভারে ৯৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানরা।

এরপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন রশিদ খান। তার ১৬ বলের ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে আফগান ইনিংসে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, রশিদ ছাড়া আর কেউ ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।

রশিদ আউটের পর সব আশা শেষ হয়ে যায় আফগানদের। পাকিস্তানের পক্ষে ৩১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন হারিস রউফ। দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন আফ্রিদি, নেওয়াজ ও মুকিম।

এর আগে, ব্যাট হাতে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ১১.১ ওভারে ৮৩ রানেই হারায় ৪ উইকেট। সাহিবজাদা ফারহান ২১, সাইম আইয়ুব ১৪, ফখর জামান ২০ ও হাসান নাওয়াজ ফেরেন ৯ রানে।

পাকিস্তানের ইনিংস বড় হয়েছে সালমান আগার ফিফটির সৌজন্যে। তিনটি করে চার ও ছয়ে ৩৬ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এছাড়া মোহাম্মদ নাওয়াজ করেন ১১ বলে করেছেন ২১ রান।

শেষ দিকে মোহাম্মদ হারিস ১৩ বলে ১৫ এবং ফাহিম আশরাফ ৫ বলে ১৪ রান করেন। আফগানিস্তানের হয়ে ফরিদ নেন ২ উইকেট।