তাসকিন আহমেদকে নিয়ে তোলপাড় চলছে দেশের ক্রিকেটে। বন্ধুর গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মামলা হয়েছে তার নামে। অভিযোগ উঠেছে, মাদক গ্রহণ ও অবৈধ নারী সঙ্গের।

জানা গেছে, রোববার রাতে মিরপুর এক নম্বর এলাকায় তারই একসময়কার বন্ধু সিফাতুর রহমান সৌরভকে ফোনে ডেকে নিয়ে মারধর ও হুমকি দিয়েছেন তাসকিন। যার জেরে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পরপরই সৌরভ মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর একটি টিভি চ্যানেলের সাথে আলাপকালে তার মাদক সংশ্লিষ্টতা ও নারী সঙ্গ নিয়েও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

দিনভর এসব নিয়ে নানা আলোচনার পর বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেন তাসকিন আহমেদ। বিষয়টিকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। বিকেলের দিকে এক ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানান এই পেসার।

তাসকিন বলেন, ‘এটা আসলে একটা ভিত্তিহীন খবর। আমার আরেক বন্ধুর সাথে ঝগড়া হয়েছিল অন্যজনের। বাকি দু’জনই আমার বন্ধু, সে আমার নামটা বলে ফেলেছে, আমার সাথে কোনো ঝগড়াই হয়নি ওর।’

ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘সবাইকে অনুরোধ, গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। আমি আমার ছোটবেলার বন্ধুর গায়ে হাত তুলেছি, এমন একটা ঘটনায় অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, এমন গুজবে কান দিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না এবং অন্যকেও বিভ্রান্ত করবেন না।’

তিনি আরো লেখেন, ‘এটা আমার, আমার পরিবার ও আমার বন্ধুর জন্য সম্মানজনক না। যা ঘটেছে, সে বিষয়ে বন্ধু ও আমার মাঝে কথা হয়েছে। এটা যে পর্যায়ে গেছে কোনোভাবে এমনটা হওয়ার কথা নয়। শুধু একটা কথাই বলতে চাই, বিষয়টা অন্য, বাস্তবতা ভিন্ন।’

তাসকিন লেখেন, ‘বিষয়টি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আশা করি, সত্যের সাথেই থাকবেন, সত্য কখনো মিথ্যা হয় না।’

এর আগে এক সংবাদমাধ্যমকে তাসকিন জানান, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, পুরোটাই মিথ্যা। আমি বাসা পরিবর্তন নিয়ে ব্যস্ত। আমি ওদের মারিনি। ওরা আমার নামে মিথ্যা জিডি করে আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে।’

পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমার রসি নামে একজন বন্ধু আছেন, ওরা আমার এই বন্ধুকে মেরেছে। তাই আমি মোহাম্মদপুর থানার ওসি সাহেবকে ফোন করেছিলাম। পুলিশ গিয়ে মোহাম্মদপুরে তাদের খুঁজেছে। এজন্য তারা উল্টো আমার নামে জিডি করেছে।’

ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে তাসকিন আরো বলেছেন, ‘ওর খালা আমার বাবাকে ফোন দিয়ে বিচার দিয়েছিল। কিছু কথা ওরা রেকর্ড করেছে। আমার বাবা আবার ওই ঘটনার কিছুই জানতো না। উনি পরে শুনে কিছু কথা বলেছে। সাথে এটাও বলেছে, ‘ওরা ছোট বেলার বন্ধু, এক সাথে মিলে মিশে থাকবে।’

‘আসলে গত কয়েক মাস ধরে ওদের সাথে মিশি না, তাই এখন ওদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’

এদিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিসিবিও। এসব নিয়ে বিসিবি পরিচালক, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘মিডিয়াতে নিউজটা সকালে দেখলাম। আমাদের আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ফাহিম ভাইও দেখেছেন।’

‘এটা নিয়ে অলরেডি তদন্ত শুরু হয়ে গেছে। এটা যদি ঘটে থাকে তাহলে সেটা খুব দুঃখজনক। আইকন প্লেয়ারের এসবে জড়ানো উচিত না। আমি এই ব্যাপারে আর মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। কী হয়েছে সেটা আগে বের হোক।’

উল্লেখ্য, সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ভুক্তভোগী সৌরভের ভাষ্য অনুযায়ী, তাসকিন আহমেদের সাথে তার আগে থেকেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কী কারণে এমন আচরণ তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে তাদের ধারণা মদ্যপান আর অবৈধ নারী সঙ্গের কারণে তাসকিনের সাথে বন্ধুত্ব না রাখায় ঘটেছে এমন ঘটনা। এর আগেও নাকি মাদক নিয়ে অনেককে মেরে বসেছেন তাসকিন, পরে আবার টাকা দিয়ে করেছেন মীমাংসাও।

এদিকে সৌরভকে মারের ঘটনার সাক্ষী দিয়েছেন আরেক বন্ধু ইশতিয়াক হৃদয়। এমনকি এই ঘটনা ফাঁস হলে গায়েব করে দেয়ার হুমকিও নাকি দেন তাসকিন।