জসিম উদ্দিন রানা, চেন্নাই থেকে

এক সপ্তাহ আগের বাংলাদেশ জাতীয় জুনিয়র হকি দল। আর একসপ্তাহ পরের দল। আকাশ পাতাল পার্থক্য। হতেই হবে, কেননা চিলি ও সুইজারল্যান্ডকে হারানো কম কথা নয়। আত্মবিশ্বাসের জ্বালানির অভাব হবে কিভাবে। তার ওপর রয়েছে বাংলাদেশের বাঘা বাঘা কিছু সাবেক প্লেয়ার। কিন্তু কারো ভাগ্যে সুযোগ হয়নি বিশ্বকাপ খেলার। বছরের পর বছর লিগ না হওয়া, এ প্রজন্মের তরুণরাই বিশ্বকাপের টিকিট কেটে দেখিয়েছে। কিছুদিন আগেও কার এত উদ্দম ছিল। ঘরোয়া প্রতি নিয়েই চেন্নাইয়ে এসেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ হকি দল। ভারতে সপ্তাহখানেক অনুশীলনের পাশাপাশি চিলি ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতি ম্যাচ খেলে জয়ও পেয়েছে তারা। এই দুই জয় আত্মবিশ্বাসে কাল সাড়ে ৩টায় অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে দলটি। তাদের সবার এক কথা, আমাদের হারানোর কিছু নেই। চেন্নাই মেয়র রাধাক...ষ্ণান স্টেডিয়ামে বেলা ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

আজ জুনিয়র হকি বিশ্বকাপের খেলা শুরু হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হলেও তার আগে পাঁচটি ম্যাচ হয়ে গেছে। শক্তিমত্তায় গ্রুপের তিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে। তবে ভারতে গিয়ে দুটি প্রতি ম্যাচ জিতে এখন বিশ্বকাপে ভালো কিছুর আশা করছে তারা। প্রতি ম্যাচে গোল পেয়েছেন আমিরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান, ওবায়দুল হোসেন ও হুজাইফা হোসেন।

বাংলাদেশ আজ সাজ সকালে সমুদ্র সৈকতে শারীরিক অনুশীলন করে দল। বাদ ছিলেন না কোচিং স্টাফের কেউ। তাদের মাঝে সে প্রত্যয় মনে হয়েছে সকলে ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছে, কারো মাঝে কোন চিন্তার ছাপ নেই। এরপর সারাদিন হোটেলে সময় কাটালেও সন্ধ্যা ৬টায় পুরো টিম আসে খেলা খেল ও উদ্বোধন দেখতে।

তখন অধিনায়ক মেহরাব হাসান বলেন, ‘আগে কখনোই আমরা ইউরোপের কোন দেশের সাথে খেলিনি। ভারতে এসে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছি। এটা আমাদের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। তাদের হারাতে পেরে আরো ভালো লাগছে। চিলিকেও হারিয়েছি। এখানে আসার পর দু’টি ম্যাচ খেলতে পারায় সবার আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমাদের হারানোর কিছু নেই। সবাই জানে তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো।’

তবে প্রতিপক্ষদের সমীহ করে মেহরাব বলেন, ‘কোনো দলকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এটা বিশ্বকাপ, সবাই খুবই শক্তিশালী। আমরা চেষ্টা করব নিজেদের সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করতে। আমরা ঘরের মাঠে প্রচুর পরিশ্রম করেছি। এখানেও করছি। হার জিতের কোনো চিন্তা করছি না। শুধু চাইছি আমরা আমাদের সেরাটা দিতে।’

সাবেক আরো অনেক খেলোয়াড় ছিল নাম ডাকওয়ালা। তাদের কারো সযোগ হয়নি বিশ্বকাপ খেলার। অনুভুতির বহিঃপ্রকাশে অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলেনি বলে তারা যে ভালো নয় সেটি বলা যাবে না। উনাদের সময় হয়তো ছয় থেকে বারোটি দল খেলতো। অনেক কঠিন ছিল কোয়ালিফাই করা। আমাদের সময় তো চব্বিশটি দল। আসলে এটি সময়ের পরিক্রমা।’

সামসুল বারি থেকে শুরু করে হকি ফেডারেশনের অনেকে সেক্রেটারির আসনে বসেছেন, তন্মধ্যে লে: কর্নেল রিয়াজুল হাসানের ভাগ্যই ভালো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এটি একটি ধারাবাহিক পরিক্রমার ফসল। একার দারা কোন কিছু সম্ভব না। যে কোন কিছু উন্নতি করতে হলে একসাথে করতে হবে, কারো একার অবদানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পোছানো সম্ভব নয়।’

কোচ সেইগফ্রেড আইকম্যান বলেন, আমি শুধু চেয়েছি ছেলেরা উন্নতি করুক। হোক না অস্ট্রেলিয়া ফাস্ট খেলে, ভালো খেলে। আমি চাই আমার ছেলেরা আগের চেয়ে ভালো খেলে কিনা। পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আমি ফলাফলে বিশ্বাসী নই। ভালো খেললে সবাই দেখবে। দেশবাসীকে বলব, তাদেরকে বাহবা দিতে ভুলবেন না। তারা সত্যিকার অর্থেই দেশের জন্য ভালো কিছু করবে।

সহকারী কোচ মশিউর রহমান বলেন, ‘দলে ইনজুরির কোন সমস্যা নেই। আশাকরি, সবাই মাঠে সেরাটা দিয়ে লড়বে।’ গত বছর ওমানের মাসকটে হওয়া জুনিয়র হকি এশিয়া কাপে পঞ্চম হয়েছিল বাংলাদেশ, যার সুবাদে প্রথমবার জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান মেহরাব, ওবায়দুলরা।