দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি সচল করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ : মির্জা ফখরুল

Printed Edition
first-2
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল গুলশান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতি সচল করাই আগামী সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, দূর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা ‘দিজ আর দ্য চ্যালেঞ্জেস’।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নিজের অনূভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, এই ফলাফল একদিকে আনন্দময়, অন্যদিকে হচ্ছে বিষাদময়। আমাদের দলের সাবেক চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগে এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখে যেতে পারলেন না এটাই বিষাদময়।

অনেক শত-হাজার রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরে একটা চমৎকার উৎসবমুখর এবং একটা স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেফিনিটলি অভিভূত, মুগ্ধ। এই ধারাবাহিকতা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি তাহলে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা আমরা রক্ষা করতে পারব।

আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলো, এই দলটি নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

বিমানবন্দর থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান। সেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান তিনি। এই সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি জনগণের কল্যাণেই কাজ করবে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য মুক্ত একটা সমাজের জন্য বিএনপি সব সময় লড়াই করেছে। তারই বহিঃপ্রকাশ বিএনপির এই বিজয়। বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, বিএনপি সব সময় জনগণের রাজনীতি করেছে, বিএনপি ক্যাডার-বেসড পলিটিকাল পার্টি না। বিএনপি মাঠের রাজনীতি করে। এই চরিত্র নিয়েই বিএনপি জনগণের কল্যাণেই কাজ করবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

উগ্রবাদী শক্তির উত্থান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ব্যাহত হলে উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ঘটে। গণতন্ত্র চাপা পড়ে গেলে বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন পরিস্থিতিরই প্রতিফলন দেখা গেছে। সরকার গঠন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আমাদের অঙ্গীকারে অটুট। যারা আমাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, তাদের নিয়েই আমরা নির্বাচন করেছি এবং তাদের নিয়েই সরকার গঠন করব। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ধারিত হবে আর কোনো বিশৃঙ্খলা না করে যারা হেরে গেছে তাদের আমরা আগলে রাখব।

এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।