আবারো কেউ যদি ফ্যাসিবাদী হতে চায় প্রতিহত করা হবে : বিরোধীদলীয় নেতা
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আবারো কেউ যদি ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।
গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, শেরপুরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে একটি উপজেলার সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়। আজ আবার আরেক উপজেলার সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং স্পিকারের মাধ্যমে খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হচ্ছে ‘যে লাউ সেই কদু’ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এত দিন বিএনপির সব কর্মকাণ্ড ছিল মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য। তারা সেই একইভাবে ফ্যাসিবাদের দিকে হাটছে। আমার আগের ফ্যাসিবাদকে মেনে নেয়নি। জনগণ এর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল, একইভাবে নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদী হতে চাইলে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
সিলেটে ১১ দলীয় জোটের প্রচারণা
সিলেট ব্যুরো জানায়, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেটে লিফলেট বিতরণ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর বন্দরবাজার পয়েন্ট থেকে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট মহানগর নেতৃবৃন্দ। লিফলেট বিতরণকালে সিলেট মহানগর ১১ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ আওয়ামী ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছিল। ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ফের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি একদলীয় শাসনব্যবস্থার পথে হাঁটছে, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। বিএনপি সরকার গায়ের জোরে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ রুদ্ধ করছে। তাদের প্রতিটি পদপেই আজ জনস্বার্থের পরিপন্থী।
তারা বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণ একই তফসিলের অধীনে একই সাথে জাতীয় সংসদ এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের রায় দিয়েছিল। জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১১ দলের ৭৭ জন প্রতিনিধি দু’টি শপথ নিলেও, বিএনপি গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করে সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে। পরবর্তীতে বিরোধী দলের প থেকে বারবার সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানানো হলেও, সরকার তা উপো করে গত ১৫ মার্চ সংসদে লোক দেখানো সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত ‘সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, সংবিধানের কাঠামোগত আমূল সংস্কার ছাড়া নিছক সংশোধনীতে জনগণের আকাক্সা পূরণ সম্ভব নয়। তাই সরকারের এই গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রতিবাদে ঐদিন বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে এবং সংসদ ও রাজপথে জনরায় বাস্তবায়নের আপসহীন লড়াইয়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। সংসদে সংখ্যাধিক্যের মতা অপব্যবহার করে জনগণের পবিত্র রায়কে আজ চরমভাবে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। সরকারের এই একগুঁয়েমি ও জনবিমুখ অবস্থান দেশকে আজ এক ভয়াবহ সঙ্ঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় চুপ থাকা মানেই ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদকে বরণ করে নেয়া। তাই নিজেদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথের দুর্বার আন্দোলনে শামিল হয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি আহ্বান জানান তারা।
লিফলেট বিতরণকালে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- ১১ দলীয় ঐক্য সিলেট মহানগরের সমন্বয়ক ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, যুগ্ম আহ্বায়ক মো: নিজাম উদ্দিন, সদস্যসচিব কামরুল হাসান আরিফ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, জেলা সভাপতি মাওলানা মো: ইকবাল হোছাইন ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মো: ফখরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সহসভাপতি আব্দুল হান্নান তাপাদার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গাফফার ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মনজুরে মাওলা, বাংলাদেশ লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল আমীন, এবি পার্টির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক মো: ওমর ফারুক, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সিলেট মহানগর আমির মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার ও বিডিপি সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ।