৪৭ বছর পর কাল ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা হবে আগামীকাল শনিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এমনটাই জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। বিপরীতে ইরানি পরে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের গালিবাফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।

কয়েক দশকের চরম উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক রক্তয়ী যুদ্ধের পর এই আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিবিসি ও রয়টার্স।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, এই বিষয়টির গুরুত্ব এখানেই যে,১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। এমন এক সময় এই আলোচনা হচ্ছে, যখন যুদ্ধবিরতি আলোচনা একটি সঙ্কটপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে- যেখানে ব্যর্থতা মানেই আবার যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং তা আরো তীব্র হয়ে ওঠার ঝুঁকি।

এই মিশনটি জেডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এতে তার সেই অবস্থানের পরীা হবে- যেখানে তিনি ইরানের সাথে যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দিতে চান। বুধবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ভ্যান্স বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে দ্রুত অগ্রগতি চান। তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ইরানি কর্মকর্তারা সৎভাবে আলোচনায় অংশ না নেন, তাহলে তারা বুঝে যাবে যে ট্রাম্প ‘সহজে ছাড় দেয়ার মানুষ নন।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে, লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা তেহরানের তীব্র নিন্দা কুড়িয়েছে। ইরানের দাবি, এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। আরাকচি সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন, হামলা চলতে থাকলে তেহরান যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসতে পারে। তিনি লেখেন, ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিতে হবে : যুদ্ধবিরতি নাকি ইসরাইলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। দুটো একসাথে সম্ভব নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘লেবাননে গণহত্যা বিশ্ব দেখছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোটে- তারা প্রতিশ্রুতি রা করবে কি না- সেটাই দেখার।’

তবে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননের হামলা আলোচনাকে বিপদের মুখে ফেলবে বলে তারা এখনই মনে করছেন না। লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, সব পকে জানানো হয়েছে যে লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়। তিনি আরো বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবেন, তবে আপাতত লেবানন এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

শান্তি আলোচনার ভিত্তি নিয়েও দুই পরে মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট। বুধবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেয়া প্রস্তাবের সাথে মিলছে না। এসব বিষয় ‘বন্ধ দরজার আড়ালে’ আলোচনা হবে। তিনি বলেন, ‘এই ১০টি পয়েন্টই সেই ভিত্তি, যার ওপর আমরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছি। এগুলো যুক্তিসঙ্গত এবং সহজেই সমাধানযোগ্য।’

এক ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেন, ইরানের পাঠানো ১০ দফা পাল্টা প্রস্তাব প্রথমে প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে মধ্যস্থতাকারীরা তা সংশোধন করে এমনভাবে সাজান, যা হোয়াইট হাউজের ১৫ দফা প্রস্তাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। লেভিট দাবি করেন, তেহরান প্রকাশ্যে যা বলছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় তার সাথে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে ইরান তা হস্তান্তর করতে পারে।

অন্য দিকে গালিবাফ বলেন, চুক্তির ১০ টির মধ্যে অন্তত তিনটি ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে দ্বিপীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা ‘অযৌক্তিক’ হয়ে পড়েছে। তার মতে, প্রথম লঙ্ঘন হয়েছে লেবাননের যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে- যা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় উল্লেখ ছিল। দ্বিতীয় লঙ্ঘন হিসেবে তিনি বলেন, একটি ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। তৃতীয় লঙ্ঘন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের সেই বক্তব্য, যেখানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে- যা চুক্তির ষষ্ঠ ধারায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মার্কিন থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান কর্মসূচির পরিচালাক রাজ জিমাত বলেন, মূল প্রশ্ন হলো আসন্ন আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু কতটা গুরুত্ব পাবে। তার মতে, তিনটি ন্যূনতম শর্তপূরণ করতে হবে- ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে নেয়া, ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ উপাদান কমমাত্রায় নামিয়ে আনা এবং যত দীর্ঘ সময় সম্ভব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখা।

তিনি সতর্ক করেন, ‘এই শর্তগুলো, যার কিছু ইরান যুদ্ধের আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল- যদি মানা হয়, তাহলে যুদ্ধ অন্তত একটি বড় অর্জন নিয়ে শেষ হতে পারে। কিন্তু যদি ইরানের কাছে এই পারমাণবিক সমতা থেকেই যায়, তাহলে সেটি হবে বড় ধরনের ব্যর্থতা।’

ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা মোগাদাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তেহরানের জনমানসে গভীর সংশয় ও ােভ বিরাজ করছে। তা সত্ত্বেও বৃহত্তর শান্তির স্বার্থে ইরান তাদের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা দাবির’ ভিত্তিতে এই আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। তবে এই আলোচনার সফলতার েেত্র প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী।

ইরান ইতঃপূর্বে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তা ধ্বংস করে দেয়া হবে। বর্তমানে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকার প্রতিবাদে ইরান আবার এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথটি বন্ধ করে দেয়ায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের প থেকে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বর্তমানে জারি থাকা সাময়িক যুদ্ধবিরতি এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনের একটি অনন্য পথ খুলে দিয়েছে। লেভিটের দাবি অনুযায়ী, প্রকাশ্যে ইরান কঠোর অবস্থান দেখালেও একান্ত আলোচনায় তাদের সুর যথেষ্ট নরম।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মাধ্যমে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র কর্মসূচির সমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইসলামাবাদে ২ দিনের সরকারি ছুটি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আগে রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদারে ইসলামাবাদে দু’দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ ছুটিতে সব স্কুল ও সরকারি কার্যালয় বন্ধ; বিধিনিষেধ মানতে হবে যান ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও েেত্রও, বলেছে তুর্কি টুডে। শহরজুড়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারকালে সড়কে লোকজনের উপস্থিতি কমাতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ দুই দিন ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ অনেক পথও বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়।

যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে প্রবেশ সীমিত করতে শহরের অনেক জায়গায় শিপিং কনটেইনার বসানো হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছে একাধিক পাকিস্তানি গণমাধ্যম।

যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও রাখার দাবি ব্রিটেন-ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়ার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং তা লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে কার্যকর হতে হবে বলে দাবি করেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। কারণ, সেখানে ইসরাইল এখনো প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ টোলমুক্ত থাকতে হবে।’ ইরান সেখানে ফি আরোপ করতে পারে, এমন খবরের বিরোধিতা করে তিনি এ কথা বলেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সাথে কথা বলেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, লেবাননসহ ‘সব সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকায়’ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা যুদ্ধবিরতিকে ‘বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী’ করার জন্য অপরিহার্য শর্ত। ম্যাক্রোঁ আরো বলেন, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক নীতি এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে বাধা দেয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও একই অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধবিরতি অবশ্যই লেবাননেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। ব্রিসবেনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এটি এখনো ‘ভঙ্গুর’ এবং একে একটি স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, লেবাননের পরিস্থিতি শুধু ওই দেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলছে, যা নিয়ে অনেক অস্ট্রেলীয় উদ্বিগ্ন।

গত বুধবার লেবাননে বিমান হামলার মাধ্যমে অভূতপূর্ব তাণ্ডব চালায় ইসরাইল। আলজাজিরার খবর অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের পর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়। রাজধানী বৈরুতের এমন অনেক এলাকাকে ল্যবস্তু করা হয়েছে, যেগুলোর সাথে হিজবুল্লাহর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এসব হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স।

দুই পরে মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও অবস্থানেও ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা বন্ধে রাজি হয়েছে। এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র বানানো সম্ভব। এ দিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে। “ইরানের সাথে মিলে যুক্তরাষ্ট্র মাটি খুঁড়ে, মাটির অনেক নিচে চাপা থাকা পারমাণবিক ‘ধূলিকণা’ সরিয়ে নেবে,” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন ট্রাম্প। অন্য দিকে কালিবাফ বলছেন, যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখতে পারবে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও শেয়ারবাজারগুলোতে সূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তেলের দাম ১৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে স্থির হয়েছে। এর আগে এক পর্যায়ে এটি ৯০ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছিল। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল এখনো মোটাদাগে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী দামের তুলনায় ২৫ ডলার উপরে রয়েছে।

কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক বিনিয়োগ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরান যে উপসাগরের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার সমতা রাখে, এবারের যুদ্ধে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ইরান। সঙ্ঘাত যে উপসাগরীয় অঞ্চলের মতার ভারসাম্য ও সম্পর্কের ধরন বদলে দিয়েছে, এখন তা-ও বোঝা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরও ইরান সৌদি আরবের তেলের পাইপলাইনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।

সৌদি আরবের ওই তেলের পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালীকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হতো, বলেছে তেল খাত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের ভূখণ্ডে পেণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী এখনো ছাড়পত্রবিহীন নৌযানের জন্য বন্ধ রয়েছে। নৌচলাচল শুরুর আগে আরো পরিষ্কার নির্দেশনা প্রয়োজন, বলছে জাহাজ পরিচালনাকারীরা। নৌ-মাইন এড়িয়ে চলতে হরমুজে নৌচলাচলের বিকল্প রাস্তা দেখানো একটি ম্যাপ ইরানের রেভেলুশনারি গার্ড কোর প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা।