আইসিডিডিআর,বি’র গবেষণা
গ্রামাঞ্চলের ৪০ শতাংশ কিশোরীই তীব্র ব্যথায় ভুগে থাকে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতি তিনজনে দুই কিশোরী একান্ত ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে অনেকেরই তীব্র ব্যথার কারণে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেকে স্কুলেও অনুপস্থিত থাকছে। আইসিডিডিআর,বি’র অ্যাডসার্চ পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফলে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ক জ্ঞানের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে, যা আরো আগে থেকেই তাদের জন্য কার্যকর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত বালিয়াকান্দি হেলথ অ্যান্ড ডেমোগ্রাফিক সার্ভিল্যান্স সিস্টেমের (এইচডিএসএস) আওতাধীন দুই হাজার ৭১৩ জন কিশোর-কিশোরীর ওপর ২৪ মাস ধরে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি চার মাস পর পর গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী এক হাজার ২৫৫ জন কিশোরীর মধ্যে ৬৪ শতাংশ মাসিক সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগে। এদের মধ্যে ডিসমেনোরিয়া (তীব্র ব্যথা) ছিল ৫৬ শতাংশ কিশোরীর মধ্যে, এটা ছিল সবচেয়ে সাধারণ একটি সমস্যা। প্রতি তিনজন মেয়ের মধ্যে একজন গবেষণাকালীন তিন বা তার চেয়ে বেশিবার মাসিকের চক্রে তীব্র ব্যথার সম্মুখীন হয়েছে এবং ৯ শতাংশ কিশোরী প্রতিনিয়ত মাসিকের ব্যথায় ভুগেছে। প্রায় ৪০ শতাংশ কিশোরী জানিয়েছে যে, মাসিকের ব্যথার কারণে তাদের প্রতিদিনের কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় একজন কিশোরী তীব্র ব্যথা বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে স্কুলে যেতে পারেনি। নিয়মিত মাসিকের ব্যথায় ভোগা মেয়েদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ কিশোরী অন্যান্য শারীরিক জটিলতারও সম্মুখীন হয়েছে।
বালিয়াকান্দি ও রাজবাড়ীর এক হাজার ৭৭ জন ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কিশোর-কিশোরীর ওপর পরিচালিত একটি পৃথক বিশ্লেষণে প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান কম ছিল। গবেষণার ফলাফলে আরো দেখা যায় যে, বিয়ের আগে প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞান পরবর্তী জীবনে প্রভাব ফেলে।
অনুষ্ঠানে কিশোর-কিশোরীদের নির্ভরযোগ্য প্রজনন স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুস্থতাবিষয়ক তথ্য প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষ্যে অ্যাডসার্চের দু’টি উদ্ভাবনী প্রকল্পও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল চাঁদপুরের মতলবে স্মার্টফোন-ভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্পটি ৮৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী পছন্দ করেছে এবং অন্যটি হলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য বাংলা মোবাইল অ্যাপ ‘কৈশোর কথা’। এতে অ্যানিমেটেড ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক্স এবং ভুল ধারণার সঠিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
আইসিডিডিআর,বি’র বিজ্ঞানী ড. ফাওজিয়া আখতার হুদার সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা: ফারহানা দেওয়ান; প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মো: নুরুদ্দীন; বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর নন্দিনী লোপা; পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের এমসিএইচ সার্ভিস ইউনিটের সহকারী পরিচালক ডা: মো: মনজুর হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্কুল হেলথ শাখার সহকারী পরিচালক ডা: আসিফ ইকবাল।