আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ২ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ : আহত ২০

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
Printed Edition

জাজিরা উপজেলার বিলাসপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই শতাধিক ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আ’লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে একজনের হাতের কব্জি ও আরেকজনের পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহতদেরকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

গতকাল শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের কাজিয়ারচর আলীমুদ্দিন মাদবর কান্দি, দাইমুদ্দিন খলিফা কান্দি, আহসান উল্লাহ মুন্সি কান্দি, বিলাসপুর মুলাই বেপারী কান্দি ও মেহের আলী মাদবর কান্দি এলাকায় হলিউড স্টাইলে সিনেমাটিক এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জাজিরা উপজেলা আওয়াম লীগের সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বেপারী ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাজিরা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য জলিল মাদবরের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই বিবাদ চলে আসছে। এ বিষয় নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিলাশপুরের কাজিয়ারচর এলাকায় এই দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার সকালে দুই পক্ষের সমর্থকরা বালতি ভর্তি ককটেল বোমা নিয়ে ও দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় মুহুর্মুহু ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনায় মারুফ মাল, সুজন মাদবর, হাসান মুন্সি (৫০), বিনা বেগম, (৪৫) সাকিব মাদবর (১৯), রেজাউল বেপারী (১৯), রিফাত (১৯), সজিব খলিফা (২৩), কাউসার (২২), নাঈম (১৯), কামাল (১৭), দেলোয়ার খলিফা (৪২), নাসির মাদবর (৪৫), কাজল খাঁ (৫৫), শহর আলী মাদবর (৬০)সহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে মারুফ মাল নামে একজনের হাতের কব্জি ও সুজন মাদবর নামে একজনের পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহতদের অধিকাংশই জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে গ্রেফতার এড়াতে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েছে ।

এ দিকে দুই পক্ষের ককটেল বিস্ফোরণের ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের বিষয়ে জলিল মাদবরের সমর্থকদের কাউকেই বার বার চেষ্টা করেও কথা বলানো যায়নি।

বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বেপারী বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই জলিল মাদবর ও তার সমর্থকরা আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ। ঈদের পর থেকে এলাকায় তার ভাই বিদ্যুৎ মাদবর ও সমর্থক সালেক মাদবরের নেতৃত্বে একত্র হয়ে হামলার পরিকল্পনা করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় শতাধিক লোক মুহুর্মুহু ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। নিজেদের রক্ষার চেষ্টাকালে আমার অন্তত ১৫-২০ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়। পরিকল্পিত হামলাকারীদের আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ দুলাল আখন্দ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিলাসপুরের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে উভয় পক্ষের লোকজনই ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশের সাথে র‌্যাব ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।