নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারস রাজশাহী স্টারস ৩-০ বাংলাদেশ আর্মি
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
হারলে প্লে-অফে। ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন। আর জিতলেতো কথাই নেই। এ সমীকরণে গতকাল সকাল ৯টায় বাংলাদেশ আর্মি ফুটবল ক্লাবের মুখোমুখি হয় রাজশাহী স্টারস। শিরোপার রেসে টিকে থেকে লিগকে প্লে-অফে নেয়ার জন্য জয়ের বিকল্প ছিল না আর্মির। তবে আর্মি ফুটবল দলকে সে সুযোগ দেয়নি রাজশাহী স্টারস। ৩-০ গোলে তাদের হারিয়ে নারী লিগের নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবির্ভাব ঘটল রাজশাহীর দলটির। উল্লেখ্য, এবারের বিপিএল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজশাহী স্টারসেরই মালিকের দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
গতকালের ম্যাচের আগ পর্যন্ত ২৪ পয়েন্ট নিয়ে রাজশাহীর ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলছিল আর্মি ফুটবল দল। রাজশাহী ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছিল। তাই কাল ঋতুপর্না, আফঈদা খন্দকারদের হারাতে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে আর্মি। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল তাদের দাপট। তবে গোল মিসগুলো তাদের লিড নিতে দেয়নি। ম্যাচের ১৭ মিনিটে স্ট্রাইকার তনিমা বিশ^াস একা পেয়ে গিয়েছিলেন রাজশাহীর গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে। তবে গোল করা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। ৪৩ মিনিটেও গোল মিস আর্মির। এবার রাজশাহীর ত্রাতা ডিফেন্ডার শিউলী আজিম। গোল লাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেন তিনি।
বিরতির পর এ গোল মিসের খেসারতই দিতে হয়েছে আর্মিকে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর সাথে সাথেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজশাহী স্টারস। এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে দুই হ্যাটট্রিকসহ সাত গোল করা আলপি আক্তার ৪৭ মিনিটে এগিয়ে নেন দলকে। অপর স্ট্রাইকার সৌরভী আকন্দ প্রীতির পাস থেকে বল পেয়ে টোকা মেরে বল জালে পাঠান পঞ্চগড়ের এ মেয়ে। এ গোলের পর আর দাঁড়াতে পারেনি আর্মি। ৫৯ মিনিটে স্কোর দ্বিগুণ করেন শাহেদা আক্তার রিপা। তারকা নারী ফুটবলার ঋতুপর্নার পাস থেকে তার এ গোল। ৮৮ মিনিটে আর্মির সব আশা শেষ হয়ে যায় ঋতুপর্না চাকমার গোলে। তিনি কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠালে জয় এবং প্রথম শিরোপা নিশ্চিত হয় রাজশাহী স্টারসের।
এখন ক্লাবটি যদি এএফসির সব শর্ত পূরণ করতে পারে তাহলে এবারের নারী এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।
কাল এ ম্যাচ জিততে পরশু রাতে দুই নেপালী ফুটবলার দিপা শাহী ও বিমলা বিকেকে উড়িয়ে আনে রাজশাহী স্টারস। ভিসা সমস্যায় তাদের আসাটা জটিল হয়ে গিয়েছিল। আবার ফ্লাইটও ছিল না। শেষ পর্যন্ত সরাসরি নেপাল থেকে না এসে ভারত হয়ে ঢাকায় আসেন তারা। রাত দুইটায় ঢাকায় পৌঁছে সকাল ৯টায় ম্যাচ খেলতে নামেন কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে।
রাজশাহী স্টারসের এ শিরোপার পেছানের কারিগর কোচ মাহমুদা খাতুন অদিতি। এর আগে তিনি চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের কোচ ছিলেন। ‘এ’ লাইসেন্সধারী এ কোচের স্বপ্ন এখন জাতীয় দলের কোচ হওয়া। রাজশাহীর ডিফেন্স লাইনের অন্যতম ভরসা ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি। দলকে চ্যাম্পিয়ন করাতে পেরে দারুণ খুশি তিনি। তার মতে, এবারের লিগ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দারুণ উপকারে লেগেছে। তারা যেমন এ লিগ থেকে টাকা পেয়েছে তেমনি ম্যাচ খেলা হয়েছে। লিগে ৪-৫টি দল সম পর্যায়ের থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্র্ণ হয়েছে। এ জমজমাট লড়াইয়ের লিগ আগে হয়নি।
কালকের ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হওয়া ঋতুপর্না জানান, আমাদের প্রথম ম্যাচ থেকেই লক্ষ্য ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। শেষ পর্যন্ত সে লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় খুবই ভালো লাগছে। সে সাথে ধন্যবাদ বাফুফেকে এমন সুন্দর লিগ আয়োজনের জন্য।
ম্যাচে হারের পর আর্মির কোচ আনোয়ার হোসেনের প্রতিক্রিয়া ছিল এমন, এ ম্যাচ ছিল আমাদের জন্য ডু অর ডাই। ড্র করলেও লাভ হতো না। তাই আমরা জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য অলআউট অ্যাটাকে খেলেছি। প্রথমার্ধেতো তিন গোলে এগিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু গোল মিসের কারণে তা হয়নি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আর লড়াইয়ে থাকতে পারিনি।
কাল অপর ম্যাচে শুদ্ধ পুস্করিনির সাথে গোলশূন্য ড্র করেছে বিকেএসপি। অপর ম্যাচে সিরাজ স্মৃৃতি সংসদকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের হয়ে জোড়া গোল করেন সাগরিকা। তার দুই গোল ৪৬ ও ৮৪ মিনিটে। যদিও প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে মারুফার গোলে এগিয়ে যায় পুলিশ। ৭৭ মিনিটে সানজিদা আক্তার দলের পক্ষে চতুর্থ গোল করেন। ২৯ গোল দিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন রাজশাহীর আলপি আক্তার। সেরা গোলরক্ষক একই দলের রূপনা। আর সেরা খেলোয়াড় ফরাশগঞ্জের শামসুন্নাহার জুনিয়র।
কাল শেষ ম্যাচে ফরাশগঞ্জ ৪-১ গোলে হারায় আনসারকে। জোড়া গোল করেন তহুরা ও শামসুন্নাহার।