চট্টগ্রামে আত্মসাৎ করা ৯৯ ভরি ‘স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার : গ্রেফতার ২

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা প্রায় ৯৯ ভরি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানার পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন দোকানের সেলসম্যান রোমেন দে (৩৬) ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী শ্যামল সিংহ (৪৭)।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন এক হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম। এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

পুলিশসূত্র জানায়, পাঁচলাইশ থানার প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জনব বিপ্লব বসাক (৫৩)। সেখানে রোমেন দে প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের কর্মীরা স্বর্ণের মজুত হিসাব মিলাতে গিয়ে অসঙ্গতি দেখতে পান। পরে মালিককে বিষয়টি জানানো হলে তিনি দোকানে আসার জন্য রওনা হন। বিষয়টি বুঝতে পেরে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে দোকান থেকে পালিয়ে যান। পরে মজুত পরীক্ষা করে দেখা যায়, রোমেনের দায়িত্বে থাকা সাতটি বাক্স থেকে ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। ওই চুড়িগুলোর পরিবর্তে বাক্সে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন দোকানের মালিক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমামের নেতৃত্বে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ আগস্ট রাত দুইটার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা চুড়িগুলোর মধ্যে ৪৬টি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রেখেছেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়।

শ্যামলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার দোকানসহ নগরের বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের হিসাবে শ্যামলের কাছ থেকে ৪৬টি এবং রোমেনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো কয়েকটি চুড়িসহ ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার হয়।