যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সুরার শিথিলতায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের মুখে বিশ্ব

Printed Edition

সিএনবিসি

ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যবাহী পারমাণবিক প্রতিরাবলয় শিথিল হয়ে পড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে সিএনবিসির সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিশ্রুতি ও সুরা বলয়ের ওপর মিত্র দেশগুলোর অটুট আস্থা এখন সঙ্কুচিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য মনে না করায় বৈশ্বিক মিত্ররা নিজস্ব প্রতিরা ব্যবস্থা নতুন করে সাজাতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে অন্যান্য রাষ্ট্রের মধ্যে নিজেদের সামরিক সমতা বাড়ানো এবং কৌশলগত স্বাধীনতা অর্জনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৬ সালের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে ইউরোপ কিংবা এশিয়ার মিত্রদের সুরায় স্পষ্ট কোনো পরমাণু নিশ্চয়তার উল্লেখ না থাকায় সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়েছে। মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজস্ব নিরাপত্তা নিজেদেরই জোরদার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ অবস্থান ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এ অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ খুঁজছে ইউরোপীয় শক্তিগুলো। গত বছরের মার্চে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মহাদেশীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্রান্সের পরমাণু প্রতিরাবলয় ব্যবহারের একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। তার এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে জার্মানি, পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া এবং ডেনমার্কের মতো দেশগুলো। এ ছাড়া ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদের সময় রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের হিসাব-নিকাশ পাল্টানোর পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের পৃথক ‘নিউকিয়ার শিল্ড’ গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৯ হাজার পারমাণবিক ওয়ারহেড বিদ্যমান। এর মধ্যে অন্তত চার হাজার ওয়ারহেড পেণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানে সরাসরি মোতায়েন রয়েছে এবং দুই হাজার দুইশ ওয়ারহেড সার্বণিক উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) দুর্বল হয়ে পড়ায় পরমাণুবিহীন রাষ্ট্রগুলোও নিজেদের রায় অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তে পারে।