বিশ্বকাপেই ফের অস্ট্রেলিয়া বধ জিম্বাবুয়ের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০০৭ সালে প্রথমবার আয়োজিত হয়েছিল টি-২০ বিশ্বকাপ। সেবার সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেটে প্রথমবার দেখায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। গ্রুপ ‘বি’তে ১ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছেল ব্র্যান্ডন টেলর-এলটন চিগুম্বুরারা। টি-২০ ক্রিকেটে সিকান্দার রাজাদের চেয়ে শক্তির বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে ট্রাভিস হেডের দল। সেই দলের বিপক্ষে জয়টি অন্যতম সেরা অঘটন হিসেবে বিবেচিত ছিল। ২০০৭ সালের পর দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল ১৯টি বছর আর টি-২০ বিশ্বকাপের ৯টি আসর। ভারত-শ্রীলঙ্কায় চলমান টি-২০ বিশ্বকাপের দশম আসরে আবার সেই ‘বি’ গ্রুপে জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপ আসরে দ্বিতীয় দেখায় আবারো অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে ধরাশায়ী করে অঘটনের জন্ম দিলো জিম্বাবুয়ে। এর মাঝে ২০১৮ সালে জুলাইয়ে দুই ম্যাচের প্রথমটিতে ১০০ রান ও দ্বিতীয়টিতে ৫ উইকেটের জয় ছিল অসিদের। সব মিলে চারবারের দেখায় জয়ের পাল্লাও সমানে নিয়ে আসল জিম্বাবুয়ে।
অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে অনেক আগে থেকেই অঘটন ঘটানোর জন্য শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রস্তুত জিম্বাবুয়ে। ১৯৮৩ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আফ্রিকার দেশটি। সেই ম্যাচে অসিদের ১৩ রানে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সেই ম্যাচের নায়ক ছিলেন তখনকার জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ডানকান ফ্লেচার।
কলম্বোয় গতকাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রায়ান বেনেটের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ২ উইকেট ১৬৯ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। লক্ষ্য তাড়ায় ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল-ম্যাট রেনশর ৫৯ বলে ৭৭ রানের জুটিতে বিপদ কাটিয়ে উঠেছিলেন অসিরা। ১৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ৩১ রান করা ম্যাক্সওয়েলকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান রায়ান বার্ল। পরের ওভারেই মাসাকাদজার বলে আউট হন স্টয়নিস। ১৮তম ওভারে ইভান্সের বলে মুনয়োঙ্গার তালুবন্দী হন বেন দারউইস।
১৮তম ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১৩৬ রান অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের জন্য তখনো ১২ বলে ৩৪ রান প্রয়োজন অসিদের। ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হয়ে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার শেষ ভরসা রেনশ। জয়টা তখনই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ের। বাকিটা ছিল সময়ের। বিশ্বকাপে প্রথমবার জিম্বাবুয়েকে হারাতে হলে তখনো শেষ ৮ বলে ৩১ রান প্রয়োজন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। হাতে ২ উইকেট। শেষ পর্যন্ত আর পেরে উঠেনি অসিরা। ওই ওভারের শেষ বলে মুজারাবানি ফেরান অ্যাডাম জাম্পাকে। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে রান আউটের শিকার হন ম্যাথু কুহনেম্যান। ৩ বল হাতে রেখে ১৪৬ রানেই অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ে জয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন মুজারাবানি। ৩টি উইকেট নিজের ঝুলিতে পুড়েন ব্র্যাড ইভান্স।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে চমৎকার শুরু পায় জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানির ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪৫ বলে ৬১ রান। ২১ বলে ৩৫ রান নিয়ে মারুমানি সাজঘরে ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর বেনেটকে সঙ্গ দেন বার্ল। এই জুটিতে ৭০ রান আসার পর ৩৫ রান করেই আউট হন বার্ল। শেষের দিকে অধিনায়ক সিকান্দর রাজার ১৩ বলে অপরাজিত ২৫ ও ৫৬ বলে হার না মানা বেনেটের ৬৪ রানের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।
উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারটা অনেকের কাছে অঘটন মনে হলেও এটাই ছিল স্বাভাবিক। কারণ গত বিশ্বকাপের পর অবসরে গেছেন দলটির অভিজ্ঞ কিছু ক্রিকেটার। বিশ্বকাপ শুরুর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষেও তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল এই দলটি। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ শুরুর এক দিন আগে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন জশ হ্যাজেলউড। এর আগে চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছিলেন প্যাট কামিন্সও। তারও আগে আন্তর্জাতিক টি-২০ থেকে অবসরে যান মিচেল স্টার্ক। আর এই ম্যাচে খেলা হয়নি নিয়মিত অধিনায়ক অলরাউন্ডার মিচেল মার্শেরও।