জাতিসঙ্ঘের শীর্ষস্থানীয় দূতরা সতর্ক করেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানোর আগে মিয়ানমারকে আরো প্রস্তুতি নিতে হবে।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তে এবং সঙ্ঘাতপূর্ণ মংডু এলাকা সফর করে। প্রতিনিধিদলের নেতা গুস্তাভো মেজা-কুয়াদ্রা বলেন, ‘মিয়ানমার কিছু পদক্ষেপ নিলেও নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য এখনো অনেক কিছু করা প্রয়োজন।’

তিনি জানান, শরণার্থীরা কিছু শর্ত মানতে নারাজ। তাই জাতিসঙ্ঘকেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া উচিত। বর্তমানে ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি-এর সাথে মিয়ানমারের একটি সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত হচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স বলেন, জাতিসঙ্ঘ মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়কেই সহায়তা করতে প্রস্তুত, বিশেষত বর্ষাকালে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোর সুরক্ষায়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নে ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স জানায়, ওই সময়ের মধ্যে ৯ লাখ রোহিঙ্গা নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৭৩০ জন ছিল পাঁচ বছরের নিচে শিশু।

জাতিসঙ্ঘের তদন্তে গণধর্ষণ, শিশু হত্যা, মারধর ও গুমের মতো অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সূত্র : রোহিঙ্গা নিউজ এজেন্সি