ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় প্রায় ১৩ ঘণ্টা বিতর্কের পরে পাস হয়েছে ওয়াকফ বিল। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করা হবে।

লোকসভায় ৫৬ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছে সংশোধিত ওয়াকফ বিলটি। ২৮৮ জন সাংসদ বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন আর বিপক্ষে দিয়েছেন ২৩২ জন।

বিতর্কিত সংশোধন

বুধবার লোকসভায় বিলটি পেশ করেন সংখ্যালঘু-বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু। তার আগে সরকারের অবস্থানের কথা ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বিল ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন সংশোধন করবে। ২০১৩ সালেও এই আইনের সংশোধন হয়। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় বিনা বিতর্কে সর্বসম্মতিতে সেই বিল পাস হয়।

তবে বিতর্ক এই বিলটির পিছু ছাড়ছে না। সংশোধিত বিল অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলে ও ওয়াকফ বোর্ডে দু’জন মুসলিম নন এমন সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও সম্পত্তি প্রদানের আরেকটি প্রাথমিক শর্ত হলো, অন্তত পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলে একমাত্র ওয়াকফকে সম্পত্তি দেয়া যাবে।

বিরোধীরা একজোট

বিরোধীরা এই বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট এককাট্টা হয়ে এই বিলের বিরোধিতা করেছে। তারা সংশোধিত বিলটিকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি (জেপিসি) বিরোধীদের মতামতে কর্ণপাত করেনি।

কংগ্রেস জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এআইএমআইএমের আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানান, তিনি প্রতীকী পদক্ষেপে মহাত্মা গান্ধীর অনুসরণে এই আইন ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে যখন লালকৃষ্ণ আদবানি, সুষমা স্বরাজের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে বিলের সংশোধনী পাস হয় তখন কোনো বিতর্ক হয়নি।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তারা কি ভুল ছিলেন?’

অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকুরের শিবসেনার সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ন্ত ওয়াকফ বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্য ও ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের সিইও পদে আমলা নিযুক্ত করার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সরকার কি মন্দির কমিটিতে অ-হিন্দুদের থাকার অনুমতি দেবে?’

সরকারের দাবি

সরকার দাবি করেছে, এই বিলটি সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন সংশোধন করবে। এর সাথে ‘ধর্মের কোনো সম্পর্ক’ নেই।

বক্তব্য রাখার সময় অমিত শাহ ওয়াকফ সম্পত্তির একটি দীর্ঘ তালিকা দেখান। তাতে মন্দির বা অন্যান্য ধর্মের জমি প্রদানের খতিয়ান রয়েছে। তিনি বলেন, ’আপনি অন্যায় করে কারো সম্পত্তি দান করতে পারেন না।’

কিরণ রিজিজু বলেন, ‘আমরা যদি আজ এই আইনের সংস্কার না করি তাহলে যেখানে এই বিতর্ক হচ্ছে, সেই সম্পত্তি ওয়াকফের কাছে চলে যাবে।’

সূত্র : ডয়চে ভেলে