ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত ১৯ জানুয়ারি থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইল গাজায় হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) গাজার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইল ১৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে গত দুই সপ্তাহে ইসরাইলের হামলায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

অফিসটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, ইসরাইলের দখলদার বাহিনী সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলা বৃদ্ধি করছে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহকারী বা তাদের বাড়ি পরিদর্শনকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে তারা গুলি ছুঁড়ছে।’

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ইসরাইলি বিমান হামলায় সাংবাদিক ও মানবিক সহায়তা কর্মীসহ নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এই মন্তব্য করা হয়েছে। হামলাটি ‘জঘন্য গণহত্যা’ হিসেবে নিন্দা করে গাজা মিডিয়া অফিস ইসরাইলের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বৃদ্ধির অভিযোগ এনেছে। অবশ্য ইসরাইলি নেতৃত্বের নির্দেশে সামরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।

অফিসটি ইসরাইলের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, লক্ষ্যবস্তুতে থাকা ব্যক্তিরা সকলেই বেসামরিক নাগরিক যারা একটি আশ্রয় এলাকায় কাজ করছিলেন এবং একটি দাতব্য সংস্থার জন্য মিডিয়া ডকুমেন্টেশন পরিচালনা করছিলেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, হামলার পর বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি বোমা হামলায় বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের অস্থায়ী তাঁবু বিতরণকারী একটি ত্রাণ দলকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সুরক্ষা কেন্দ্রও নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন, তারা জানিয়েছে যে তারা ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক ত্রাণ প্রচেষ্টার নথিভুক্ত করছিলেন।

মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, আক্রমণ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে।

সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি