গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কাছে বন্দী ‘আমাদের প্রিয়জনদের জীবন নিয়ে খেলছে’ ইসরাইলি সরকার- এমনটাই অভিযোগ করছে বন্দী ইসরাইলিদের পরিবারগুলো।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় বন্দী ইসরাইলিদের পরিবারগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় তাদের আত্মীয়দের মুক্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য চেয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বন্দী ইসরাইলিদের পরিবারগুলো জানিয়েছে, ‘দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলি সরকার আমাদের প্রিয়জনদের জীবন নিয়ে খেলছে। আশ্বাস দেয়া হয়েছিল তা ভঙ্গ করা হয়েছে। আশা দেয়া হয়েছিল তা পদদলিত করা হয়েছে।’

পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি সরকার জনসাধারণের কাছে সত্য গোপন করেছে এবং ‘নিরাপত্তা হুমকির সাথে সম্পর্কিত নয় এমন অবস্থানের পরও একগুঁয়ে জেদের কারণে আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবন বিপন্ন করছে’।

চিঠিতে তারা বলেছে, ‘যখন নির্ভর করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকে না, তখন আমরা আপনার পানে যাই, পেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

তারা আরো বলেছে, ‘আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে পারেন’।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। দেশটির অব্যাহত এ হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে। এজন্য প্রতিদিন ১০০টি লরি ব্যবহার করতে হবে।

জাতিসঙ্ঘের হিসাব মতে, গাজায় ভবন ধসে এ পর্যন্ত ৪২ মিলিয়ন টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপগুলো যদি একসাথে এক জায়গায় রাখা যায়, তাহলে তা মিসরের ১১টি গ্রেট পিরামিডের সমান হবে। এ ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যয় হবে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি)।

ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের হিসাব অনুসারে, গাজায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট ভবনের অর্ধেকের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এক-দশমাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ হেক্টর জমির প্রয়োজন পড়বে।

সূত্র : আল-জাজিরা