ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে নয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
শনিবারের হামলাটি সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের সাথে থাকা একটি ত্রাণ দলকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে তিনজন স্থানীয় সাংবাদিক রয়েছেন।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সুরক্ষা কেন্দ্র এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সাংবাদিকরা ইসরাইলের গণহত্যার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক ত্রাণ প্রচেষ্টার নথিভুক্ত করছিলেন।’
সংগঠনটি গাজা যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সম্মত যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, জানুয়ারিতে প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের পর থেকে বিভিন্ন মানবিক ও দাতব্য সংস্থা ফিলিস্তিনিদের জন্য, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে, মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করতে শুরু করেছে।
গণমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, বাইত লাহিয়ায় হামলার কারণে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তবে এটিই সেখানে প্রথম নয়। গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি ড্রোনগুলোকে আকাশে উড়তে দেখা যায়। অন্যদিকে রাফাহ শহরে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইসরাইলি হামলার মুখোমুখি হয়েছে।
হামাস বেইত লাহিয়ায় হামলাকে ‘ভয়াবহ গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের ধারাবাহিকতার এটি একটি বিপজ্জনক বৃদ্ধি বলে, যা তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রাখার এবং সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন অবজ্ঞা করার প্রতি তাদের দৃঢ়তাকে প্রতিফলিত করে।
এদিকে এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বেইত লাহিয়া এলাকায় ‘দুই সন্ত্রাসী ড্রোন পরিচালনা করছিল, যা ইসরাইলি সৈন্যদের জন্য হুমকিস্বরূপ’ ছিল। তাই তাদেরকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবির বিষয়ে কোনো প্রমাণ না দিয়ে ইসরাইল বলেছে, ’পরে আরো কিছু সন্ত্রাসী ড্রোন পরিচালনার সরঞ্জাম সংগ্রহ করে একটি গাড়িতে প্রবেশ করে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালায়।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধে কমপক্ষে ৪৮ হাজার ৫৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ১১ হাজার ৯৮১ জন আহত হয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি বলে জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে মৃত বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা