চীনের সাথে শুল্ক ইস্যুতে সমঝোতার একটি পথ রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তবে দু’দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করা সময়সাপেক্ষ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।- খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

স্থানীয় সময় রোববার (২৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে স্কট এসব বলেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বৈঠকের সময় চীনা প্রতিনিধিদের সাথে তার আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি চীনা প্রতিনিধিদের সাথে কিছুটা আলোচনা করেছি। কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কট সম্পর্কিত বিষয়েই এই আলোচনা হয়েছে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের তার সমকক্ষ শি জিনপিংয়ের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্কট নিশ্চিত নন বলে জানান।

এদিকে শুক্রবার (২৫এপ্রিল) পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের উদ্দেশে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ‘শুল্ক নিয়ে চীনের সাথে আলোচনা চলছে।’

তবে আলোচনার প্রসঙ্গটি প্রত্যাখান করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের ভুল ধারণা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

অবশ্য চীনের জনগণকে খুশি করতেই দেশটির সরকার আলোচনার বিষয় অস্বীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী।

এদিকে, শনিবার (২৬ এপ্রিল) কাজাখস্তানে এক আঞ্চলিক বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের ব্যাপারে বেইজিং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলবে এবং অন্য দেশের সাথে সংহতি বজায় রেখে চলবে।

তিনি বলেন, ‘কিছু দেশ অকারণে বাণিজ্যযুদ্ধ উস্কে দিচ্ছে। নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা অন্য দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে, এতে তাদের স্বার্থপরতা প্রকাশ পাচ্ছে।’

অবশ্য শুল্ক ইস্যু নিয়ে চীনের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানান স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, ‘উচ্চ শুল্কহার চীনের ব্যবসার জন্য টেকসই নয়, এটি তারা শিগগিরই বুঝতে পারবে।’

শুল্ক নিয়ে আলোচনা অস্বীকারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা চীনের মানুষকে এই বার্তা দিতে পারে।

চীন ভিন্ন শ্রোতাদের উদ্দেশে এসব বলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে আলোচনায় উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে। এরপরে ১৭ থেকে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে, যেগুলো নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে।

তবে দু’দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কোনো বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচনার কৌশলের প্রশংসা করেন স্কট। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের এই কৌশলকে গেম থিওরিতে কৌশলগত অনিশ্চয়তা বলা হয়। এতে আলোচনার সময় প্রতিপক্ষকে নিজের পরিকল্পনার চূড়ান্ত লক্ষ্য জানানো হয় না।’

এই কৌশলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে দক্ষ আর কেউ নেই বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট।

এমন এক সময় মার্কিন অর্থমন্ত্রী এসব বলেন, যখন শুল্কারোপের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করে দেশটির খুচরা বিক্রেতারা হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছেন।

তারা জানায়, এই অতিরিক্ত শুল্কারোপের ফলে দ্রুতই তাদের মজুত পণ্য শেষ হতে চলেছে, পাশাপাশি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করেন।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যেই সৌন্দর্য পণ্য, স্বাস্থ্য পণ্য, বাসাবাড়ির জিনিসপত্র ও খেলনার মতো পণ্যের গড় মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

তবে ট্রাম্পের দাবি, শুল্ক শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের উপকারে আসবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।

তিনি বলেন, শুল্ক কার্যকর হলে অনেকের আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে বা পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে। একে তিনি আমেরিকানদের জন্য এক বিশাল সুযোগ (বোনাজা) বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে পৃথক এক সাক্ষাতাকরে মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স জানান, ‘শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিয়ত চীনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চীন ছাড়া অন্যান্য দেশের সাথেও নিয়মিত এই বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

রোলিন্স জানান, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে সয়াবিন ও শূকরের গোশতের মতো কৃষিপণ্য রফতানি সঙ্কটে পড়লে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘আশা করি, এর প্রয়োজন হবে না। তবে যদি সমস্যা হয়, তবে স্বল্পমেয়াদে আমরা প্রস্তুত আছি।’

হোয়াইট হেউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও এমন সহায়তা দেয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মার্কিন কৃষিমন্ত্রী।

তবে কৃষকদের সহায়তা প্রয়োজন হবে কি না তা নির্ধারণে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এটির প্রয়োজন হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক। সূত্র : ইউএনবি