আধুনিক ব্যাটারি উৎপাদনে ইরান : পরিচ্ছন্ন শক্তি সঞ্চয়ে যুগান্তকারী অগ্রগতি
এই প্রযুক্তিগত অর্জনের সাফল্য কেবল পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে না, বরং ইরানের বৈদ্যুতিক যান, শিল্প এবং ঘরোয়া বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের খাতেও দেবে নতুন গতি।
পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল ইরান। দেশটি এবার প্রবেশ করল উন্নত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নির্মাতা দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে। এই প্রযুক্তিগত অর্জনের সাফল্য কেবল পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে না, বরং ইরানের বৈদ্যুতিক যান, শিল্প এবং ঘরোয়া বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের খাতেও দেবে নতুন গতি।
ইরানের ছাত্রদের সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, ইরানের তৈরি এই নতুন প্রজন্মের ব্যাটারিতে গ্রাফাইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে সিলিকন অ্যানোড। ফলে একই ওজন এবং আয়তনের মধ্যে আগের চেয়ে দশ গুণ বেশি চার্জ ধারণ সম্ভব হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিলা ন্যানোটেকনোলজিস-এর মতো কোম্পানিগুলো আগে থেকেই এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিল। ইরান এখন সেই পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রমাণ করল। এই প্রযুক্তি এতদিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপের নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের দখলে ছিল। তবে ইরান এখন নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে এই ব্যাটারি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে, যা আগে কেবল আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। শিগগিরই এই ব্যাটারির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে বিদেশনির্ভরতা কাটিয়ে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার পথে চলবে ইরান।
এই ব্যাটারিগুলোর আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে তরল দাহ্য ইলেকট্রোলাইট ব্যবহার করা হয় না। পরিবর্তে কঠিন বা জেলজাতীয় ইলেকট্রোলাইট ব্যবহার করায় আগুনের ঝুঁকি থাকে অনেক কম। টয়োটা এবং কোয়ান্টামস্কেপের মতো সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই এই 'সলিড-স্টেট ব্যাটারি' নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। ইরানের এই অগ্রগতি সেই দৌড়ে নতুন মাত্রা যোগ করল।
ব্যাটারিগুলোর দ্রুত চার্জ নেয়ার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য। মাত্র ১৫ মিনিটেই ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হয়ে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়িচালকরা এক বিশাল স্বস্তি পাবেন। শুধু গাড়ি নয়, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এমনকি সামরিক এবং মহাকাশ খাতেও এদের ব্যবহার বাড়ছে। এছাড়া লিথিয়াম-আয়রন ফসফেট (LFP) জাতীয় কিছু ব্যাটারি অপেক্ষাকৃত কম খরচে ইলেকট্রিক যানেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
ইসনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ব্যাটারি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটির মডিউল ডিজাইন বিশেষজ্ঞ ফেরেশতে রেজাই জানান, ইরানের তৈরি ব্যাটারির ক্ষমতা ৫৪ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার্স, যা সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির চেয়ে অধিকতর কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী। এগুলো দ্রুত চার্জ হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে পারে।" তিনি জানান, "বিশেষ করে সৌর খামারগুলোতে দিনের বেলায় সূর্য আলো থেকে সংগৃহীত শক্তি ধরে রেখে বা সংরক্ষণ করে রাতে এই ব্যাটারিগুলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্ভব হয়।"
বিশ্ব যখন দ্রুত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং বৈদ্যুতিক পরিবহনের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন ইরানের এই অগ্রগতি শুধু দেশের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।