বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় মেলিসার আঘাতে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে। ঝড়টি এখন বারমুডার দিকে এগুচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র (এনএইচসি) জানিয়েছে, বাহামায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে কিউবা, জ্যামাইকা, হাইতি ও প্রতিবেশী দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে জলাবদ্ধতা আরো কিছুদিন থাকতে পারে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকদের তথ্যমতে, মেলিসা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে একটি। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা চারগুণ বেড়ে গেছে।
এনএইচসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বারমুডায় গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ের পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং দ্বীপটি ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতার আওতায় ছিল। সেখানে সর্বোচ্চ ১৫৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে।
শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
জ্যামাইকার তথ্যমন্ত্রী ডানা মরিস ডিক্সন বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় মেলিসার আঘাতে ১৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ওয়েস্টমোরল্যান্ডে নয়জন এবং সেন্ট এলিজাবেথে আটজন প্রাণ হারিয়েছেন।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছ, জ্যামাইকা ও কিউবায় যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে, দারিদ্র্যপীড়িত হাইতির বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরো ২০ জন।
এছাড়াও মেলিসার আঘাতে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ১৬ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে কিউবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সান্তিয়াগো দে কিউবা, হোলগুইন ও গান্তানামো প্রদেশের প্রায় সাত লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সূত্র : বাসস