উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) দেশটির সামরিক সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটিতে সামরিক বাহিনীর সাথে আরএসএফের প্রায় দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়ার পর আরএসএফের নেতা মোহাম্মদ হামদান ’হেমেদতি’ দাগালো বলেছেন, এই দলটি সুদানের একমাত্র বাস্তবসম্মত ভবিষ্যত তৈরি করতে পারবে।

ঘোষণাটি এমন এক সময় এলো যখন লন্ডন সুদান সংঘাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে একটি উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ডেভিড ল্যামি লড়াইরত সব পক্ষকে ’শান্তির পথ’ বেছে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হেমেদতি বলেন, আরএসএফ ব্যক্তি শাসিত রাষ্ট্র নয় বরং ‘আইনের রাষ্ট্র’ গড়ে তুলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে হেমেদতি আরো বলেন, ‘আমরা আধিপত্য চাই না, ঐক্য চাই। আমরা বিশ্বাস করি যে কোনো উপজাতি, অঞ্চল বা ধর্ম সুদানি সত্তার পরিচয়ের ওপর একচেটিয়া অধিকার রাখে না।’

তিনি বলেন, তার সরকার কেবল আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই নয় বরং সমগ্র দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদান করবে।

এদিকে জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, আরএসএফের সাম্প্রতিক হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

দুই বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ উভয়ের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে গণহত্যা ও যৌন সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সুদানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সাথে তার একসময়ের সহকারী আরএসএফের প্রধান জেনারেল হেমেদতির ক্ষমতার লড়াইয়ে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গৃহযুদ্ধে এক লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং এক কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি