শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও পূর্ব গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর সেনাবাহিনী ও এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সহিংস লড়াই শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ডিআর কঙ্গোর বুকাভু থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

গত জুন মাসের শেষের দিকে ডিআরসি ও রুয়ান্ডার মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর, কিনশাসা ও এম২৩ গত ১৯ জুলাই নীতিগত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে। সেখানে তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

তবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিগুলো সহিংসতা বন্ধ করেনি। গত শুক্রবার থেকে দক্ষিণ কিভু প্রদেশের মুলাম্বা শহরে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ এবং কিনশাসার সাথে যুক্ত স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আবারো লড়াই তীব্রতর হয়েছে।

স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্রের মতে, ভারী ও হালকা অস্ত্রের সংঘর্ষের পর এম২৩ এলাকায় উপস্থিত মিলিশিয়া এবং কঙ্গোলিজ সশস্ত্র বাহিনী (এফএআরডিসি) সৈন্যদের পিছনে ঠেলে দেয়। রোববার উভয়পক্ষই শক্তিবৃদ্ধি করেছে।

প্রাদেশিক রাজধানী বুকাভু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মুলাম্বা শহরের আশপাশে সোমবারও লড়াই চলছে। টেলিফোনে এএফপিকে স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, উভয় বাহিনীই ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং মুলাম্বার সবদিকে বোমা ছোড়া হচ্ছে।

কোনো পক্ষই হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি।

সোমবার এক বিবৃতিতে এম২৩ মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা ‘বড় আকারের সংঘাতের লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল’ পরিচালনা করার জন্য কিনশাসাকে অভিযুক্ত করেন।

২০২১ সালে পুনরুত্থানের পর থেকে এম২৩ সম্পদ সমৃদ্ধ পূর্ব ডিআরসিতে বিশাল অঞ্চল দখল করেছে। যার মধ্যে জানুয়ারিতে গোমা এবং ফেব্রুয়ারিতে বুকাভুর প্রধান শহরগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জুলাইয়ের শেষের দিকে প্রকাশিত জাতিসঙ্ঘের মানবিক-বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে পূর্বাঞ্চলের সহিংসতার কারণে বিশ লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে।

সূত্র : বাসস