ঢাকার রাস্তায় যানজট, গণপরিবহনের ভিড় আর অটোরিকশার ঝামেলা যেন প্রতিদিনের সঙ্গী। গন্তব্যে পৌঁছাতে কখন লাগবে- তা বলা মুশকিল। আরামদায়কভাবে যাতায়াত করা যেন অনেকের কাছেই বিলাসিতা। বিশেষ করে যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, তাদের প্রতিদিনই মুখোমুখি হতে হয় অনিশ্চয়তা আর অস্বস্তির।

এক সময় রাজধানীর অনেকেই নির্ভর করতেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর। কিন্তু বাস্তবে এই বাহনে যাত্রার অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি, গরমে ভেতরে বসে থাকা, আর সিটের অস্বস্তি- সব মিলিয়ে যাত্রার আগে থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হয়।

একসময় চলাচলের জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল হলুদ ট্যাক্সি। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া আর সীমিত সংখ্যার কারণে সেগুলোর দেখা এখন মেলে খুব কমই।

এই প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালে ঢাকায় উবারের মতো রাইড শেয়ারিং সেবা চালু হলে অনেকে কিছুটা স্বস্তি পান। এই অ্যাপ থেকেই গাড়ি ডাকা যায়, নির্দিষ্ট ভাড়াও দেখা যায় আগেই। দরকষাকষির ঝামেলা নেই। গেটেই এসে দাঁড়ায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি। অনেকের কাছেই এটি এক নতুন অভিজ্ঞতা ছিল- যেখানে গরমে, ধুলায় ভরা রাস্তায়ও ভেতরে বসে পাওয়া যায় স্বস্তি।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তাহমিনা বেগম জানালেন, ‘সিএনজির (অটোরিকশা) জন্য অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে যেতাম। কেউ যেতে চায় না, কেউ গেলে আবার ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি। এখন উবার বা অন্য রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে গাড়ি ডেকে ফেলি। ভাড়াও অনেক সময় সিএনজির কাছাকাছি পড়ে, অথচ গাড়ি অনেক বেশি আরামদায়ক।’

উবারে রয়েছে একাধিক স্টপ যুক্ত করার সুবিধাও আছে। ফলে এক রাইডেই বন্ধুকে নামিয়ে দেয়া কিংবা অফিসে যাওয়ার পথে শিশুকে স্কুলে নামিয়ে দেয়ার মতো কাজও সেরে নেয়া সম্ভব। অনেকেই বলছেন, কাজের চাপে সময় যখন কম, তখন এমন সেবা কার্যত জরুরি হয়ে উঠেছে।

তবে সবার অভিজ্ঞতা যে একরকম, তা নয়। কখনো কখনো চালকরা রাইড ক্যানসেল করে দেন, কেউ কেউ নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে চান না। ভাড়া কখনো কখনো বাড়তেও দেখা যায়। তবু প্রতিদিনের যাতায়াতে যারা কিছুটা স্বস্তি খোঁজেন, তাদের জন্য রাইড শেয়ারিং একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হয়ে উঠেছে।