বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন বিএফডিসির নতুন এমডি মাসুমা রহমান তানিকে নিয়ে অসম রাজনীতি চলছে। সদ্য নিয়োগ পাওয়া এ কর্মকর্তাকে ঘায়েলে প্রতিমুহূর্তে মতলববাজদের কাল্পনিক গল্পের তীর ছোড়া হচ্ছে। মনগড়া অভিযোগে ফ্যাসিস বানিয়ে তাকে এমডির পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
জানা যায়, মাসুমা রহমান তানি একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি তিনি নাটকও নির্মাণ করেছেন। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিরও তিনি সদস্য। গেল ফেব্রুয়ারিতে এফডিসির এমডি নিয়োগ দেয়া হয়। তার নিয়োগ মেনে নিতে না পেরে চলচ্চিত্র পাড়ায় অনেকেই অসন্তুষ্ট হন। যার কারণে অনেকেই তানির দোস্ত থেকে দুষমণ বনে যান। যাদের তিনি অগ্রজ বলে জানতেন তারাই কোমর বেঁধে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নামেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে তানি সক্রিয় থাকলেও তাকে ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে তার নিয়োগ বাতিল দাবি করেন। গণমাধ্যমে নায়ক ফেদৌসের সাথে থাকা সংগীত শিল্পি কনা’র ছবিকে তানির ছবি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, মাসুমা রহমান তানি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দোসর। তিনি যুবলীগের অর্থায়নে শেখ মুজিবকে নিয়ে একটি সিনেমাও নির্মাণ করেছেন। এ সিনেমার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অর্থ ও সুবিধা নেয়ারও অভিযোগ করা হয়। কিন্তু অভিযোগকারীরা তাদের মৌখিক অভিযোগের বাইরে ফ্যাসিবাদের সাথে তানির সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। তাদের প্রমাণাদির মধ্যে কয়েকটি স্কিনশর্ট ও নায়ক ফেরদৌসের একটি ছবি দেয়া হয়। স্কিনশর্টগুলো পরীক্ষা করে তাতে তানির কোনো সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়নি। আর ফেরদৌসের সাথে দেয়া ছবিতে অভিযোগকারীরা যাকে তানি দাবি করছিলেন তা মূলত সংগীত শিল্পি কণার ছবি ছিল।
অন্যদিকে তানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানেও তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। উল্টো তানির কাজের অনেকে প্রসংশা করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তানি এফডিসিতে আসার পর আগের চেয়ে তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কর্মীদের বেতন বিগত কয়েক বছর থেকে অনিয়মিত থাকলেও এখন তা নিয়মিত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গতকাল মাসুমা তানি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আমি ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। সরাসরি ২০ দিন ছাত্রদের সাথে রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি।’
তিনি বলেন, হঠাৎ করেই আমাকে যুবলীগ নেত্রী বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। কেউ তা প্রমাণ করতে পারলে আমি যেকোনো শাস্তি মেনে নেবো।
এদিকে মাসুমা তানির বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের অভিযোগ এনে শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান স্তগিতেরও অভিযোগ ওঠেছে। যদিও বিষয়টি শিল্পকলা একাডেমির সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ওয়ারেছ হোসেন অস্বিকার করেছেন। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘কারো জন্য অনুষ্ঠান স্তগিত হয়নি। যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন আর কথা বলতে চাই না। অফিসে আসেন কথা বলবো’ বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।’