বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা। জেলা প্রশাসন যাকে ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ ঘোষণা করেছে। জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এছাড়া, জেলার ভেতর দিয়ে মেঘনা ও তেতুলিয়াসহ অসংখ্য নদ নদী, খাল-বিল বয়ে গেছে।
প্রায় ৩ হাজার ৪০৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলার বড় অংশই সমুদ্র উপকূল ও নদীর চর। দ্বীপ এই জেলা জুড়ে এখন বৈচিত্রময় কৃষি। চাহিদার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি খাদ্য উৎপাদন হয় এই জেলায়। মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর চরে ২৬ ধরনের ফসল ফলে। উচ্চমূল্যের ফসল ক্যাপসিকাম, স্কোয়াশ,বিটরুট, গাছআলুসহ নানারকম ফসলের চাষ হয় নদীর চরে।
সম্প্রতি জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চরটবগি, চর পদ্মা, চর মুন্সি গিয়ে দিগন্তজোড়া মেঘনা চরে সয়াবিন, ক্যাপসিকাম,মরিচসহ নানা ফসল দেখা যায়। সেখানে কথা হয় কৃষক কাশেম এর সাথে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ক্ষেতে ক্যাপসিকাম চাষ করেন। এ বছর তিনি ১৬০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম লাগিয়েছিলেন। চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। বিক্রি করেছেন ২০ লাখ টাকারও বেশি। ৩২০ শতাংশ ক্ষেতে সয়াবিন চাষ করেছেন। এছাড়া, গোলআলু ও কাচা মরিচ চাষ করেছেন। কাশেমের মতো আরো অনেকেই এই চরে জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন রকম ফসল ফলিয়েছেন। মেঘনার বুক চিরে ফসলের বৈচিত্র্য এনেছেন।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, জেলার মোট নিট ফসলি জমির পরিমাণ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮২ হেক্টর। এর মধ্যে তিন ফসলি জমি ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫২ হেক্টর,দুই ফসলি ৬৯ হাজার ৮৫৫ হেক্টর এবং এক ফসলি ৪ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমি। তিনের অধিক ফসল হয় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে।
বোরো ধানসহ অন্যান্য শাকসবজি যেমন জন্মে এই দ্বীপ জেলায়। তেমনি মুগ, চিনাবাদাম,সয়াবিন,মরিচ,তরমুজ, শসা, ঢেড়শ, গোলআলু, মিষ্টি আলুসহ নানা রকমের ফসল চাষ হয়। অন্যদিকে, সমতলের মতো সরিষা, পিঁয়াজ,রসুন,মিষ্টি কুমরা, নানা রকম সবজিসহ অন্যান্য ফসলেরও বিস্তৃতি ঘটছে এই দ্বীপ জেলা ভোলায়। সবমিলে কৃষি আবাদে বৈচিত্র্য এসেছে মেঘনা-তেতুলিয়া নদীর চরে। এ সব ফসল ট্রলারে করে ঢাকা,বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিক্রি করেন কৃষক।
জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (উপ পরিচালক) ড. শামীম আহমেদ বলেন, দ্বীপ জেলা হলেও ভোলা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি জেলা। জেলার খাদ্য চাহিদা (অপচয়সহ) ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯ টন। বিপরীতে উৎপাদন হয় ৯ লাখ ৩৩ হাজার ১২৫ টন। অর্থাৎ ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬ টন খাদ্য উদ্বৃত থাকছে।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, দ্বীপ জেলা ভোলায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাদের কাছ থেকে যেসব সমস্যা পাচ্ছি শোনার পর তা সমাধানের চেষ্টা করছি।
জানা যায়, ১৮৬৯ সালে মহকুমা হওয়ার আগে (প্রায় ১৫৬ বছর) ভোলা ছিল নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত। মহকুমা হওয়ার পর এটিকে বরিশালের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রশাসনিক দফতর ছিল দৌলতখানে। ১৮৭৬ সালে এটি ভোলায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৮৪ সালে ভোলাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভোলার পূর্ব নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।