পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার ঘরমুখো মানুষ এখনো ছুটছেন নিজ গন্তব্যে।
শনিবার সকালে সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে জানান, এটি এ পর্যন্ত টোল আদায়ের সর্বোচ্চ পঞ্চম রেকর্ড।
এদিন সকালেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের গণপরিবহনের কিছুটা চাপ দেখা দিলেও কিছু সময়ের মধ্যেই সেতু পাড়ি দিচ্ছে এসব যানবাহন। এতে করে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় দীর্ঘ সময়ের জন্য যানজটে আটকে থাকার কোনো জনভোগান্তি নেই।
শনিবার ঈদের ছুটির প্রথম দিনেই রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গগামী গণপরিবহনগুলো একসাথে টোলপ্লাজায় চলে আসলে শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভোরে গণপরিবহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপও বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এদিন মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত চাপ ঠেকাতে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত আরো একটি বুথ চালুসহ মোট তিনটি বুথ দিয়ে মোটসাইকেলের টোল আদায় করে।
এ সময় মাওয়া প্রান্তে মোট আটটি বুথসহ উভয় প্রান্তে মোট ১৬টি টোলবুথ সচল থাকায় কিছু সময় ব্যবধানে সেতু পাড়ি দিতে সক্ষম হয় এসব যানবাহন। এদিন শুক্রবার পদ্মা সেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৯ হাজার ৬৩৭টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার ৩০০টাকা।
এর আগে, বুধবার (২৬ মার্চ) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্তে ১৪ হাজার ৯৯২টি ও জাজিরা প্রান্তে ১১ হাজার ৪৩৬টিসহ মোট যানবাহন পারপার হয়েছে ২৬ হাজার ৪২৮টি।
এদিন মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত মিলে মোট টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা। পরদিন ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্তে ১৭ হাজার ৩৩৫টি ও জাজিরা প্রান্তে ১০ হাজার ৩৪৮টিসহ মোট ২৭ হাজার ৬৮৩টি যানবাহন পারপার হলে মোট টোল আদায় হয় তিন কোটি সাত লাখ ৬৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের টোল রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতু চালু হলে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল। ওই দিন মোট ৪৫ হাজার ২০৪টি যানবাহন থেকে চার কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছিল। একই বছরের ১৪ জুন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড ভেঙে যায়।
এদিন ৪৪ হাজার ৩৩টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা। আর ২০২৩ সালের ২৭ জুন সেতু দিয়ে ৪৩ হাজার ১৩৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল।
এদিন টোল আদায় হয়েছিল চার কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। ২০২৪ সালের ১৫ জুন চতুর্থ সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড ভেঙে যায়।
এদিন ৩৯ হাজার ২৬টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ২৯ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা। সেতু চালুর পর এখন পর্যন্ত এ চার দিন ছিল টোল আদায়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
পরবর্তীতে ঈদের ছুটির প্রথম দিনে শুক্রবার (২৮ মার্চ) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ৩৯ হাজার ৬৩৭টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে চার কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা। এটি এ পর্যন্ত টোল আদায়ের সর্বোচ্চ পঞ্চম রেকর্ড বলে জানা গেছে।
এদিকে সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, শনিবার সকালের দিকে টোল প্লাজার সামনে থেকে প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যে যানবাহনের চাপ কিছুটা দেখা দিলেও মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই সেতু পারপারে সক্ষম হয়েছে এসব গণপরিবহনগুলো।