বিনিয়োগকারীদের না জানিয়ে শেয়ার বিক্রি করে ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে মশিউর সিকিউরিটিস লিমিটেড। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, হাউজ কর্তৃক বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্টে রক্ষিত শেয়ার ও জমাকৃত অর্থ বাবদ প্রায় ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা বলছেন, তারা যখন জানতে পারেন সংশ্লিষ্ট হাউজ হতে ডিপিএ-৬ সিডিবিএল-এর প্রতিবেদন সংগ্রহপূর্বক দেখতে পাই যে বাহ্যিকভাবে পোর্টফলিও সঠিক রেখে অভ্যন্তরীণভাবে সমুদয় শেয়ার বিক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে প্রতিকারের আশায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী মো: ইলিয়াস হোসেন বলেন, মশিউর সিকিউরিটিদের এমন জালিয়াতির কারণে বিনিয়োগকারীগণ স্তম্ভিত ও বিস্মিত। কারণ দেশের স্বনামধন্য বিএসইসি ও ডিএসসির মতো দু’টি নিয়ন্ত্রণকারী কার্যালয়ের দৃষ্টি এড়িয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্ট হতে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা মশিউর সিকিউরিটিজ কর্তৃক আত্মসাৎ করা হয়েছে। যা আমাদের বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বহুসংখ্যক বিনিয়োগকারী ব্যক্তিগতভাবে লিখিত আকারে ডিএসই এবং বিএসইসিকে অবহিত করেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও এ সংক্রান্ত অগ্রগতি অদ্যাবধি আমরা জানাতে পারিনি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বহু সংখ্যক বিনিয়োগকারী সিনিয়র সিটিজেনসহ অনেক কর্মকর্তা, কর্মচারী সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে অবসর গ্রহণপূর্বক অবসরোত্তর প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট হাউজে বিনিয়োগ করে বর্তমানে হাহাকার জীবন-যাপন করছে।
২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড, বোনাস শেয়ার ও রাইট শেয়ার না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ভয়াবহ বিপর্যন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া বেশিভাগ বিনিয়োগকারী প্রাপ্য ডিভিডেন্ড, মুনাফায় পরিবার-পরিজনের ভরণপোষনের ব্যয় নির্বাহ করে আসছে। সব কিছু হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা আজ নির্বাক-নির্বিকার।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা জানান, বিনিয়োগকারীকে না জানিয়ে মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেড শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। এ জন্য বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিং প্রদান করা হয়।
বিনিয়োগকারীর মোবাইল ফোন বাদ দিয়ে নিজেদের ফোনে সিডিবিএল-এর মেসেজ আদানপ্রদান করা হয়েছে। শেয়ার বিক্রির পর টাকার জন্য চাহিদা দিলে টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। বিনিয়োগকারীদেরকে চেক প্রদান করার পর ব্যাংক থেকে চেক ডিজঅনার করা হয়। বিশেষ সফওয়্যারের মাধ্যমে শেয়ার সেল এবং বিনিয়োগকারীদেরকে ভূয়া পোর্টফোলিং তৈরি করা হয়।