‘মরহুম তানিফা আহমেদ ছিলেন জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক ও বীর সেনানী; তার এ বীরত্ব গাঁথা দেশ ও জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।’
বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর-১১, এভিনিউ-৫-এ মরহুম তানিফা ও পরে তার নিহত মামা শামীমের বাসায় পরিবারের খোঁজ-খবর নেয়ার সময় সমবেত স্বজনদের উদ্দেশ্যে এমন সান্ত্বনাবাণী উচ্চারণ করেনর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ৎ
চট্টগ্রাম হাসপাতালে ওঈট-তে চিকিৎসাধীন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেন ও চট্রগ্রাম মহানগরী আমিরের সাথে একান্তে কথা বলেন । তিনি চিকিৎসার জন্য তার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মিরপুর মডেল থানার সহ-মুখপাত্র তানিফা আহমেদ তার মামা শামীমসহ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, চট্টগ্রামের লোহাগড়ার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত ২ এপ্রিল সকাল ৭টায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন প্রাণ হারান। চট্রগ্রাম থেকে ফেরার পথে তানিফা ও তার মামা শামীম, মামী, দুই মামাতো বোন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে শামীমের এক বন্ধু তার স্ত্রীসহ ও আরেকজন বন্ধু এবং ড্রাইভারসহ একই পরিবারের ৬ জন প্রাণ হারান।
এ সময় মহানগরী আমিরের সাথে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের গণমানুষের নেতা কর্নেল (অব) আব্দুল বাতেন, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য নাসির উদ্দীন, পল্লবী দক্ষিণ থানা আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরপ্রার্থী আশরাফুল আলম, যুব বিভাগ সেক্রেটারি, ঢাকা মহানগরী উত্তর ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাসানুল বান্না চপল, পল্লবী জোন প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান, যুব বিভাগ, সিনিয়র সহসভাপতি ঢাকা মহানগরী উত্তর নাসির উদ্দিন সজল প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, মরহুম তানিফা আহমেদ স্বৈরাচার ও ফ্যাসীবাদ বিরোধী আন্দোলনে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়িভাবে স্থান করে নিয়েছেন। তার এ ঐতিহাসিক অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি মরহুম তানিফাসহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সকলের রূহের মাগফিরাত কামনা করে সকলকে জান্নাতের আ’লা মাকাম দানের জন্য মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে দোয়া করেন।
মহানগরী আমির তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের সবরে জামিল ধারণের তাওফিক কামনা করেন।
তিনি বলেন, মৃত্যু যেভাবেই হোক তা আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ি নির্ধারিত সময়েই হয়ে থাকে। আর দুর্ঘটনাতে কারো কোন হাত নেই। মরহুম তানিফা আহমেদ ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ ও গর্বিত সন্তানদের মধ্যে একজন। তার দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত সফরে দেশ ও জাতির যে অনন্য সাধারণ অবদান রেখেছেন তা আমরা কখনোই বিস্মৃত হবো না। তাই শোক কাতর না হয়ে আমাদেরকে মরহুমের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সকলকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি নিহত পরিবারের পাশে থাকতে সম্ভব সবকিছু করার আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি