ড্যাবের ইফতার মাহফিলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতারা

'অনুষ্ঠানের ফুটেজগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালের শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে উদ্বেগ জানায়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনরায় উজ্জীবিত দেখে শঙ্কা প্রকাশ করেন' এক শিক্ষার্থী।

অনলাইন প্রতিবেদক

স্থান

ঢাকা

dab

জাতীয় সংসদের এলডি হল মাঠে গত ১৭ মার্চ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদলের পদত্যাগী সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চিহ্নিত ক্যাডারদেরকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা শঙ্কিত ও আতঙ্কিত।

'ড্যাবের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং শসোমেক ইউনিটের উপ-বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আবু সাদাত তুষার; উপ মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা আল মিজান, উপ ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক শেখ ফরহাদ বেশ দাপটের সাথেই অনুষ্ঠানস্থলে বিচরণ করছে' একজন অভিযোগ করেন।

'অনুষ্ঠানের ফুটেজগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালের শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে উদ্বেগ জানায়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনরায় উজ্জীবিত দেখে শঙ্কা প্রকাশ করেন' এক শিক্ষার্থী।

ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর সরাসরি হামলায় জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ প্রশাসনের তরফ থেকে বিভিন্ন মেয়াদী বহিষ্কারাদেশ চলমান। চলমান বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই ড্যাবের মতো একটি পেশাজীবী সংগঠনের এমন ইফতার আয়োজনে তাদেরকে কেন শেল্টার দেয়া হলো প্রশ্ন থেকে যায়'।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০-২১ সেশনের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যাদেরকে আমরা এতদিন অত্যাচারী ছাত্রলীগ হিসেবে চিনি তাদেরকে তথাকথিত ছাত্রদল নেতার ছত্রছায়ায় দেখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, আমরা সবাই ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি এবং যারাই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পুনর্বাসন করবে আমরা তাদেরকে সবাই মিলে দমন করব ।

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম সৈকত বলেন, ২০১৮ সালের কমিটিতে জহিরুল ইসলাম এই ক্যাম্পাসের ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতির পদ পান। পরের দিন তিনি পদত্যাগও করেন। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রচলিত ধারায় রাজনীতি করে যাচ্ছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন না পেয়ে জহিরুল ইসলাম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে রাজনীতি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি যারা জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে, সেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে ড্যাবের ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর। আমরা কেন্দ্রে অভিযোগ করেছি আমরা তার সাংগঠনিক শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে জানতে জহিরুল ইসলামের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও মেসেজ দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।