হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি এখন কোনো কূটনৈতিক আলোচনা নয় এটা মুসলিম উম্মাহর ঈমানি দায়িত্ব, ফরজ ইবাদতের মর্যাদা পেয়েছে। যদি মুসলিম জাতি আজো ঘুমিয়ে থাকে, তবে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। সময় এসেছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার।

গাজায় দখলদার ইসরাইলের পৈশাচিক আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনবাসীর ডাকা বৈশ্বিক হরতালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ জেলা কমিটির উদ্যোগে সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা হেফাজতের সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম কাসেমী।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, ‘ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল আজ সরাসরি মানবতা ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ-কারো জীবনেরই কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ও মুসলিম বিশ্বের দুর্বল নেতৃত্ব আজ এই গণহত্যার অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, সেই মাহেন্দ্রক্ষণ খুবই নিকটবর্তী-যেদিন ফিলিস্তিন হবে বিজয়ের প্রতীক, আর দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের শেষ অধ্যায় সেখানেই রচিত হবে। ফিলিস্তিনকে রক্ষা করা কেবল একটি ভূখণ্ড রক্ষার প্রশ্ন নয়, বরং এটি আল-কুদস, আকসা মসজিদ ও মুসলিম জাতির আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই।’

আল্লামা সাজিদুর রহমান বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতায় বসে থাকায় ফিলিস্তিনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দায়িত্ব থেকে মুক্ত নন। এখনই সময় ঐক্যবদ্ধভাবে একতাবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেয়ার ইসরাইলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কট করতে হবে, তাদের বন্ধুরূপী মিত্রদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।’

অন্য নেতারা বলেন, ‘ইসরাইল ও তাদের মিত্র পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দিতে হলে তাদের পণ্য বর্জনের আন্দোলনকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। এখন কথা নয়, প্রতিটি মুসলিমের জীবন ও ভোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের পণ্য বয়কট করতে হবে।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, মাওলানা দ্বীন ইসলাম, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মাষ্টার গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে হাজারো জনতার ফিলিস্তিনের বিজয় কামনায় স্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে।