ইসলামী আন্দোলনকে গতিশীল ও দ্বীনের বিজয় নিশ্চিত করতে প্রত্যেক ঘরে ঘরে ইসলামের সুমহান আদর্শ তুলে ধরতে সকল স্তরের জনশক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।

আজ রাজধানীর মগবাজারের একটি মিলনায়তনে হাতিরঝিল অঞ্চল জামায়াত আয়োজিত কেন্দ্র ঘোষিত গণসংযোগ কর্মসূচি বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে এক দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি ও অঞ্চল সহকারী পরিচালক মু. আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, আহসান উল্লাহ, ইউসুফ আলী মোল্লা, কলিম উল্লাহ ও আবু সাঈদ মণ্ডল প্রমুখ।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘ইসলাম একটি শ্বাস্বত ও পরিপূর্ণ জীবন বিধান। মানবজীবনের এমন কোনো সমস্যা নেই যার সমাধান ইসলামে দেয়া হয়নি। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ দ্বীনে হক্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো অত্যাবশ্যকীয় করে দিয়ে যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। বিশ্বনবী সা: ও একই দায়িত্ব নিয়ে দুনিয়াতে প্রেরীত হয়েছিলেন। তার আসহাব (রা.)-গণও একই দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে গেছে। সে ধারাবাহিকতায় তা এখন আমাদের ওপর বর্তেছে। কিন্তু এ কাজ সহজসাধ্য ও কন্টকমুক্ত নয়। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালা দ্বীনে হক্বকে বাতিলের ওপর বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন। তাই কোনো অপশক্তির বাধা-প্রতিবন্ধকতায় হতোদ্দম হলে চলবে না বরং সকল জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে দ্বীনকে বিজয়ী করতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’ তিনি দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে ময়দানে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহ সম্প্রতি ঈদ উদযাপন করলেও জায়নবাদী দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে ধ্বংসস্তুপ ও মৃত্যুপুরীতে পরিণত করছে। আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে উপর্যুপরি বিমান হামলা চালানো হচ্ছে গাজা নগরীতে। প্রতিনিয়তই মজলুম ফিলিস্তিনীদের রক্তে রঞ্চিত হচ্ছে গাজা নগরীর রাজপথ। দখলদার বাহিনীর জিঘাংসা থেকে রেহাই পাচ্ছে না নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সেবা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোও ইহুদীবাদী জিঘাংসা থেকে মুক্ত থাকছে না। যা অতীতের হালাকু খানের বাগদাদ ধ্বংসের নির্মমতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।’ তিনি গাজায় ইসরাইলি হামলা ও নির্মম গণহত্যা বন্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান। অন্যথায় দখলদাররা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

শেরেবাংলা নগর থানা উত্তর জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সমাবেশ

শেরেবাংলা নগর থানা উত্তর জামায়াত আয়োজিত ইউনিট সভাপতি সমাবেশ মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯ টায় আগারগাঁও শেরেবাংলা নগর থানা উত্তর জামায়াতের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

থানা আমির আব্দুল আউয়াল আজমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের গণমানুষের নেতা মোবারক হোসাইন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ডক্টর আব্দুস সামাদ।

এ সময় থানা অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতেখার সুজন খান, হাফেজ সাইফুল ইসলাম, থানা যুব বিভাগের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ও ৬০ ফিট উত্তর ওয়ার্ডের সভাপতি আসাদুজ্জামান টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোবারক হোসেন বলেন, ‘দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো কোনো সাধারণ দায়িত্ব নয় বরং তা আমাদের ওপর রীতিমতো অত্যাবশ্যকীয় করে দেয়া হয়েছে। যুগে যুগে নবী-রাসূল সা:-রা এ মিশন নিয়েই দুনিয়াতে প্রেরীত হয়েছিলেন। বিশ্বনবী সা:-এর মিশনও ছিল একই। তাই এ দায়িত্ব থেকে কারো পক্ষেই অব্যহতি নেয়ার সুযোগ নেই। আর ইউনিটগুলোই হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি। তাই আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করতে ইউনিট সংগঠনকে আরো গতিশীল, কার্যকরী ও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ইউনিট দায়িত্বশীলদের ময়দানে আপোষহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি