‘দেশের চলমান ঘটনায় সুযোগসন্ধানী বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিলেক্টিভ প্রতিবাদ করে বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং তীব্র কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য বিবৃতি দেয়া শুরু করেছে’ এমন অভিযোগ করেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
‘বিএনপি ইতোমধ্যে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সরকার ও প্রশাসনকে অসংখ্যবার অনুরোধ করেছে। সরকার পরিকল্পনামাফিক প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে জাতির দীর্ঘ প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করা' বলে মনে করেন তিনি।
আজ শনিবার নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদল এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন জানিয়ে মুন্না বলেন, ‘রাজধানীর চকবাজার থানার ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য দিবালোকে অত্যন্ত নৃশংস কায়দায় নির্মমভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। এমন নৃশংস বর্বরতা প্রত্যক্ষ করে সমগ্র জাতি ‘স্তম্ভিত’। এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। সভ্যতার এই যুগে এমন আদিম বর্বরতা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের আশ্চর্যজনকভাবে মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। যারা প্রাণঘাতী আঘাতগুলো করেছে তারা অদ্যবধি গ্রেফতারও হয়নি। এর কারণ আমাদের বোধগম্য নয়। খুনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনজন খুনিকে পুলিশ কৌশলে বাদ দিয়ে নিরপরাধ তিনজনকে আসামি করেছে। ঘটনার পর ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও, খুনিদের খুনের প্রমাণাদি হাতে থাকা সত্ত্বেও অদ্যবধি কেন মূল আসামিদের গ্রেফতার করা গেল না, এটা এক বিরাট প্রশ্ন ও রহস্য।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত প্রায় এক বছরেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের জীবনের নূন্যতম নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনায় যুবদলের একজন বহিষ্কৃত নেতাকে গুলি করে ও রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা জাতীয় গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এদিকে চাঁদপুরে খুতবা দেয়ার সময়ে একজন ইমামের ওপর নারকীয় কায়দায় প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে।’
এ সময় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবির পল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল, সাবেক যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুন উপস্থিত ছিলেন।