জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের অমর্যাদা হয় এমন কোনো নির্বাচন আমরা দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করে সুন্দর, সুষ্ঠু ও ভাল একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করি। নির্বাচন প্রশ্নে আমরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ দেখতে চাই না। আমরাও কোনো দেশের কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আমরা সবাইকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই।
রোববার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কুলাউড়া পৌরসভা মিলনায়তনে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আব্দুল মোন্তাজিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা মিলেমিশে দেশটাকে গড়ে তুলব। কেউ কাউকে হিংসা করব না। মানুষ হিসেবে ভালোবাসবো। কেউ অন্যায় করে থাকলে সে অনুতপ্ত হউক লজ্জিত হউক। তার বিচার হউক। কিন্তু আমরা কারো দিকে জালিমের হাত বাড়াবো না। আমাদের হাতটা যেন জুলুমের হাত না হয়। আল্লাহ তায়ালা এই হাতকে ইনসাফ এবং এহসানের হাত হিসেবে কবুল করুন।
২০০১ সালে কুলাউড়া থেকে নির্বাচন করেছিলেন উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, তৎকালীন সময়ে যারা আমাকে ভোট দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন এবং যারা দেননি সকলেই আমার কাছে সম্মানিত। আমি বিগত সাড়ে ১৫ বছর কুলাউড়ায় আসতে পারিনি। আসতে দেয়া হয়নি। এরপরও আমরা মুসলিম এইড হাসপাতাল কুলাউড়ায় প্রতিষ্ঠা করেছি। ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে ২০০ কম্পিউটার দিয়েছি । এছাড়া সাড়ে ৪০০টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করেছি কুলাউড়ায়।
জামায়াত আমির বলেন, আমার উপর যুদ্ধাপরাধীর অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু কুলাউড়ার কোনো মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে সাক্ষী দেননি সেজন্য যুদ্ধাপরাধ মামলা থেকে রক্ষা পেয়েছি। আমি কুলাউড়াবাসীর প্রতি চির কৃতজ্ঞ।
কুলাউড়া আসনে নির্বাচন নিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, দেশের যেকোনো আসনেই আমি নির্বাচন করতে পারি। দল যেখানে আমাকে মনোনয়ন দিবে সেখানেই আমি নির্বাচন করব।
এ সময় জুলাই বিপ্লবে যুদ্ধে যারা বুলেটবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন তাদের মাগফেরাত কামনা করেন এবং যারা আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করেছেন তাদের সুস্থতা কামনা করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়েছিল। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের গুম খুন করা হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। বিচারকরা অন্যায়ভাবে রায় দিয়ে বলেছেন, ফাঁসিতে ঝুলানোর ব্যবস্থা করে এসেছি। এ ধরনের বিচারপতিরা ভারতে পালিয়ে যাবার সময় সিলেটের জঙ্গলে ধরাও পড়েছেন।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদ সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, বেনজীর আহমদ পীর মাশায়েখদের বলত মুল্লা। শাপলা চত্বরের ঘটনায় তিনি বলেছেন, মুল্লাদেরকে খতম করে দিয়েছেন। আরে ভাই, আপনি মরার পর এই মুল্লাদেরই প্রয়োজন পড়বে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত দম্ভ করা ভাল নয়। অতিরিক্ত দম্ভোক্তি পতনের কারণ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। আমরাও সমর্থন দিয়েছিলাম। কিন্তু জালিম সরকার শিক্ষার্থীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আন্দোলন চিরতরে দমাতে চেয়েছিল। আমরাও বলেছি ডু অর ডাই। আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হলো। অন্য দলের নেতাদেরও জেল ভরা হলো। আমরা বলেছি, অভ্যুত্থান-বিপ্লব সব করতে হবে। জামায়াতও সব করেছে। আমাদের দলকে নিষিদ্ধ আর শিক্ষার্থীদের বুকের উপর গুলি করে হাসিনা চেয়েছিল ক্ষমতার মসনদে ঠিকে থাকতে। কিন্তু এদেশের আপামর জনতা তাদেরকে দেশ থেকে চিরতরের জন্য তাড়িয়েছে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়েতের আমির ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান ও মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ প্রমুখ।
এ সময় অনুষ্ঠানে ডাক্তার, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা কুলাউড়ায় উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলেন। ডা: শফিকুর রহমান হাকালুকি হাওর, চা বাগান তথা চা শিল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে পেশাজীবীদের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনেন। এ সময় ভবিষ্যতে মতামতগুলো প্রাধান্য পাবে বলেও জানান জামায়াত আমির।