কিশোরকণ্ঠ জাতীয় পাঠ প্রতিযোগিতা-২০২৫-এর জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ জাতীয় শিশু একাডেমির মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকারী প্রতিযোগীদের ক্রেস্ট, প্রাইজবন্ড ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে মোট ১০০ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক আবুল আসাদ নতুন প্রজন্মকে নিজেদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রমাণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কিশোরকণ্ঠ একটি ব্যতিক্রমধর্মী ম্যাগাজিন যা শিশু কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিকতার সাথে গড়ে তোলে। তিনি কিশোরকণ্ঠের প্রচার ও পাঠকসংখ্যা বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য নিজেদের যোগ্য করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক মোশাররফ হোসেন খান বলেন, কিশোরকণ্ঠ শিশু-কিশোরদের একটি পত্রিকা হলেও এর সাথে বাবা ও দাদাসহ একাধিক প্রজন্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের সব কিশোর-কিশোরীর কাছে কিশোরকণ্ঠ পৌঁছে দেয়াই তাদের প্রত্যাশা। এ জন্য তিনি সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কিশোরকণ্ঠকে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, বর্তমানে কিশোরকণ্ঠ বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত ম্যাগাজিন। ভবিষ্যতে দেশের সব কিশোর-কিশোরী ও শিক্ষার্থীর হাতে কিশোরকণ্ঠ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের আরো বেশি কপি নেয়া এবং অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাই কিশোরকণ্ঠের অন্যতম লক্ষ্য। কিশোরকণ্ঠের মাধ্যমে একজন পাঠক নিজের জীবন ও দর্শনকে চিনতে এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা পায়।

তিনি বলেন, কিশোরকণ্ঠ যে নৈতিকতার বিকাশ সাধনের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে, এবং আমাদের গানের যে থিমটা আপনারা অনেকেই শুনেছেন— ‘কিশোরকণ্ঠ পড়ব, জীবনটাকে গড়ব’।

নূরুল ইসলাম বলেন, কবিতা, গল্প, কমিকসসহ কিশোরকণ্ঠে প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয়ের মধ্য দিয়ে নান্দনিকতা, ইসলামের মৌলিক অনুভূতি ও ইথিক্স দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে একজন পাঠক নিজের জীবন ও দর্শনকে চিনতে পারে এবং একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রয়াস পায়।

তিনি বলেন, সমাজের অসহায় মানুষ ও লেখাপড়া থেকে পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

শিক্ষার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শরীর, মন এবং আত্মার সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ। আত্মার পুনর্গঠন ছাড়া শিক্ষা প্রকৃত অর্থে মানুষ তৈরি করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, লাখো লাখো শিক্ষার্থী প্রতিবছর কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তারা এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজ ও কল্যাণের জন্য কাজ করে, পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা শেখে। একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইনও তারা কিশোরকণ্ঠের মাধ্যমে পায়।

কিশোরকণ্ঠের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, এই পত্রিকা আমরা নিজেরা পড়ব, অন্যদের মাঝে এই পত্রিকার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। নিজ নিজ জায়গা থেকে এই আদর্শের প্রচারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পরে প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। কিশোরকণ্ঠ জাতীয় পাঠ প্রতিযোগিতা-২০২৫-এর প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকারীরা হলেন— প্রথম : নিশাত তাসনিম সাবা, দ্বিতীয় : মো: লালচাঁদ বাদশা, তৃতীয় : সাফা মারওয়া, চতুর্থ : মোহাম্মদ মুরাদ হাসান সিফাত, পঞ্চম : মোহাম্মদ রইসুল আখির, ষষ্ঠ : মোসা: সুমাইয়া আক্তার, সপ্তম : মোহাম্মদ ফরহাদুজ্জামান মিশা, অষ্টম : মোহাম্মদ তানভীর রহমান সৌরভ, নবম : ফাতিহা হাসান বিথি, দশম : মোসা: মুনজেরা খাতুন।

পুরস্কার বিতরণ শেষে প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকারী প্রতিযোগীদের নিয়ে অতিথিদের সাথে গ্রুপ ছবি তোলা হয়। বিজয়ীদের সাফল্যে উপস্থিত দর্শক ও অভিভাবকরা করতালির মাধ্যমে তাদের অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক মোশাররফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল আসাদ। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব সিবগাতুল্লাহ, কবি জাকির আবু জাফর, অধ্যাপক আব্দুর রব, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি এবং কিশোরকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক সাইদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।