‘রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা থাকলেই নগর হবে পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য’ বলে মনে করে রাজনীতিবিদ ও সচেতন নাগরিকরা বলেছেন, আগামীর রাজনৈতিক নীতি প্রণয়ণে পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিকল্প নেই। কোটি মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে বাসযোগ্য শহর নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ঢাকা এবং পাশ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলো তথা গোটা বাংলাদেশের মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের স্বার্থে পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নীতি প্রনয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৭ মে) ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনী মিলিনায়তনে ‘নাগরিকবান্ধব নগর গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা’ এক শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, নাগরিক বিকাশ ও কল্যাণ (নাবিক), সেন্টার ফর গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।

আলোচনা সভার সভাপতি বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে ধারণাপত্র পাঠ করেন।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ১৭৩টি শহরের তালিকায় অবসবাসযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ স্থানে। এক্ষেত্রে অন্যতম কারণ হিসেবে বায়ু, পানি, শব্দ ও নদীদূষণ চিহ্নিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ একাধিক বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত দেশের তালিকায় রয়েছে। ২০২১, ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে প্রথম, পঞ্চম, প্রথম এবং দ্বিতীয়। একইসাথে ২০২৪ সালে দূষিত শহর হিসেবে রাজধানী ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয়। বিশেষত ২০২২ সালে ঢাকার গড় বস্তুকণা, পরিমাণ ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৮৬.৭ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত সীমা (পাঁচ মাইক্রোগ্রাম/প্রতি ঘনমিটারে) এর প্রায় ১৭ গুণ বেশি। বায়ুদূষণ রোধ করা গেলে বাংলাদেশে প্রতি বছর এক লাখ দু’ হাজার ৪৫৬ জনের অকালমৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। বায়ুদূষণের পর শব্দদূষণেও বিশ্বের শীর্ষ স্থানটি দখল করে আছে ঢাকা। জাতিসঙ্ঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনএপি) আওতায় ‘ফ্রন্টিয়ারস ২০২২ নয়েজ, ব্লেজেস অ্যান্ড মিসম্যাচেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বে শব্দ দূষণের প্রথম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল পারফরমেন্স ইনডেক্স (ইপিআই)-এর ২০২৪ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৫তম। ঢাকার অবস্থা কতটুকু নাজুক তা বোঝা যায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে যেমন, জীবনের মান সূচকে শেষ দিক থেকে চতুর্থ, বিশ্বের সবচেয়ে ধীর গতির শহর, বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে, শব্দদূষণেও শীর্ষে, দূষিত শহরের তালিকায় ষষ্ঠ, বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকার প্রথম সারিতে, বিশ্বে যানজটের সূচকে পাঁচ নম্বরে, পৃথিবীর চতুর্থ ঘনবসতিপূর্ণ শহর, শব্দদূষণেও শীর্ষে ঢাকা, স্বাস্থ্যসেবার সূচকে শেষের দ্বিতীয় স্থানে। অর্থাৎ দেশের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি খুবই খারাপ।

নগরায়নের দ্রুত প্রসারে আমরা যেমন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তেমনি পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন : রাজনৈতিক দলগুলো যদি পরিবেশকে উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখে এবং নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে নাগরিকের মধ্যেও সচেতনতা গড়ে ওঠে। পরিবেশবান্ধব শহর গঠনে শক্তিশালী নীতি ও পরিকল্পনা দরকার, যা কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থেকেই আসতে পারে। নির্বাচনের আগে দলগুলো কথা দিয়ে থাকে যে, তারা রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্টসহ নানাবিধ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবে। এসব উন্নয়নের সময় প্রচুর বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, পানিদূষণ, ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতাসহ নানাবিধ জনদুর্ভোগ দেখা দেয়, তাই নির্বাচিত হওয়ার আগেই কথা দিতে হবে যে পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।

দ্বিতীয়ত, নীতিমালা প্রণয়ন ও আইনের মান্যতা : রাজনৈতিক দলগুলোর সরকার গঠনের ক্ষমতা থাকে। তারা চাইলে সবুজ শহর গঠনের জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, সবুজখোলা জায়গা সংরক্ষণ-এসব বিষয়ে কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে। ইতোমধ্যে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালীরা মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন ব্যবসা করেছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিন্ডিকেট করছে, বেশিভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে শহরের খোলা জায়গাগুলোর দখল করে দলীয় কার্যালয় বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বানানো হয়, এছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মাইকের প্রচুর ব্যবহার, শোডাউনে বাইক বা গাড়ি তীব্র হর্ণ দিয়ে শব্দদূষণ করেছে ইত্যাদি। এসব কার্যক্রম একদিকে যেমন আইনের পরিপন্থী অপরদিকে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে, ফলে জনপ্রিয়তা হারাতে হয়।

তৃতীয়ত, জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা : রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে তাদের সংগঠন ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে

জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা এবং পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে যেমন-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করা, শব্দদূষণ রোধ। এছাড়া স্কুল, কলেজ, ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্যাম্পেইন করে জনগণকে বোঝাতে পারে-এই নগর আমাদের, এই পরিবেশ আমাদের, তাই আমাদেরই দায়িত্ব এটি রক্ষা করা।

চতুর্থত, অভিনব প্রকল্প ও উদ্ভাবন : পরিবেশবান্ধব শহর গড়ার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ছাদ বাগান, সৌরবিদ্যুৎ চালিত সড়কবাতি, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ইত্যাদি উদ্যোগ নিতে রাজনৈতিক দলগুলো ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় বাজেটে এসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বাস্তবায়ন সহজ হয়। পরিবেশ রক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এটা সম্মিলিত দায়িত্ব। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর রয়েছে দিকনির্দেশনা দেয়ার, নেতৃত্ব দেয়ার এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা। তাই তারা যদি আন্তরিক হয়, পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে আমরা অনেক দূর এগোতে পারি। পরিবেশকে উপেক্ষা করে উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পরিবেশকে উন্নয়নের মূল অংশ করে তোলা। তাহলেই আমরা গড়ে তুলতে পারব একটি স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব নগর-আজকের জন্য, আগামী প্রজন্মের জন্য।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমাদের চাওয়া বেশি। আমরা আমাদের সমস্যা কমিয়ে নিয়ে আসার কথা কিন্তু আরো বাড়ছে। আমরা নিজেই আমাদেরকে নিয়ে সতর্ক নই। দেশে পরিবেশ নিয়ে নীতিমালা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। এজন্য দরকার ভালো সরকার। দেশে আইন-কানুন করা হলেও তার কার্যকারিতা নেই। এজন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে। এখন তরুণরা কথার বাস্তবায়ন দেখতে চায়। দেশে পরিবেশের ছাড়পত্র টাকার বিনিময়ে হয়। এবার যারা সরকারে আসতে চায়, তাদেরকে জবাবদিহিতায় আনতে হবে, আগের মতো টাকা দিয়ে কি পরিবেশের ছাড়পত্র পাবে? আমরা ভেবেছিলাম, অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়গুলো নিয়ে একটা কিছু করে যাবে, দেখিনি, দেখি কি করে। গণপরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ধনীরা গণপরিবহন ব্যবহার করে। একটি প্রাইভেটকার ১০ জন মানুষের জায়গা দখল করে থাকে, এতে করে জ্যাম তো হবেই। শুধু দেখি প্রাইভেটেরকারের ছড়াছড়ি। ঢাকা শহরের আর নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা নেই। বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গার পরিকল্পনা দরকার।’

বিএনপির সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, ‘অসম্ভব সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কোনো কিছু হয় না। চাঁদা তুলে অন্যায় কাজ করতে দেখেছি, কিন্তু গাছ লাগাতে দেখিনি। রাজনীতিবিদদের সব দোষ অস্বীকার করব না, হাট-বাজার, ঘাট, নদী, বিল সব দখল করে কিন্তু এটির বুদ্ধি দেয় কে? তারা তো বিচারের আওতায় আসে না।

আমাদের পরিবেশ উপদেষ্টাকে দেখছি, পলিথিন নিয়ে কথা বলতে, নয় মাসে কোনো কার্যক্রম দেখিনি পরিবেশবান্ধব করতে। রাজনীতিবিদরা রাজনীতিক বক্তব্য দেন, তবে তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলে তারা সেটি দেখে এবং সিদ্ধান্ত নেয়। আওয়ামী রেজিম শুধু গাছ কেটেছে, গাছ লাগায়নি।’

তিনি বলেন, ‘নয় মাসে কোনো কাজ করেননি উপদেষ্টারা, আওয়ামী লীগের টাকা পয়সা সেফ করার জন্য কিন্তু ৫ আগস্ট আসেনি, এজন্য আমাদের সন্তানরা রক্ত দেয়নি।’

হিউম্যান এইড রিসার্চ ল্যাব অ্যান্ড হাসপিটাল-এর চেয়ারম্যান ডা: শেখ মঈনুল খোকন বলেন, ‘আমাদের মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে। সমস্যা সমাধানে হিরোজম আছে, আপনারা ( রাজনৈতিক দল) যদি ভালো কাজ করেন ভোট দিতে মানুষ আপনাদের দ্বিধা করবে না।’

অ্যাডভোকেট রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘২০০-এর মতো আইন আছে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে নেই। তার প্রয়োগ নেই।’

সাংবাদিক ফয়সাল খান বলেন, ‘রাজনীতিকে দলগুলো যদি সিদ্ধান্ত নেয় আমরা চাঁদা নিব না, তাহলেই নগরের পরিবেশ ঠিক করা সম্ভব। পরিবেশ নষ্টের পেছনে শিল্পবর্জ্য, এটি খালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যার পেছনে রাজনৈতিক নেতারাই দায়ী।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দেশে ৫০ শতাংশ বিদেশী গাছ। বিদেশী গাছ দেশে যত বাড়বে, তত পরিবেশের ওপর ক্ষতি হচ্ছে। বিদেশী গাছের তো পরিচয় আমরা দিতে পারি না। অথচ একটি ছাতেন গাছ এটি আমাদের। ঢাকা শহরের উদ্যানগুলোতে দেশী পাখি দেখা যায় না, কারণ এই গাছগুলো তাদের পরিবেশবান্ধব নয়। এ দেশে তো গবেষকদের কোনো দাম নেই। এত কর্মসূচি নেয়, অথচ গবেষণা করা হয় না। বিজ্ঞানকে মূল্যায়ন না করলে কোনোভাবে পরিবেশবান্ধব নগর করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানকে অবহেলা করে শুধু রাজনীতিবিদরা পরিবেশকে ঠিক করতে পারবে না।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা আব্দুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি, তবে পরিবেশ দেখেন তো? ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায়? তাহলে কীভাবে পরিবেশ ঠিক করা সম্ভব। পরিবেশ নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব নগর পিতার, নগর পিতা নির্বাচিত হলেই পরিবেশ ফিরে আনতে কাজ করবে, আমরা সহযোগিতা করব।’

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ‘ঢাকা শহরে দেখলেই বাস্তবিকতা বোঝা যায়, সামগ্রিক অবস্থা কেমন? পৃথিবীর অন্য দেশে যারা গিয়েছেন তারা পার্থক্য বুঝতে পারবেন। সকালে বের হলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, রাস্তায় জ্যামের কারণে। শুধু কি তাই, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, নিরাপদ পানি এই শহরে মানুষ পায় না। ৫৩ বছরে দেখছি শুধু লোপাট, লুটপাট, স্থানীয় প্রতিনিধিরা শুধু ভোট নিয়ে গেছে। ফুটপাতের দোকান ও রিকশা ডাম্পিং করা ওই সমস্যার সমাধান নয়। এক্ষেত্রে জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।’

মিশন গ্রীন বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব নগর কীভাবে করতে পারি, সেটি কিন্তু নগর পিতারা ভাবেন না, কথা বলেন না। তারা মানুষের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন, তবে মানুষ যদি না বাঁচে তবে সেই মানুষের হয়ে কাজ করবে কি করে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, ‘পরিবেশ পুরো ব্যাপারটা একটা রাজনৈতিক ব্যাপার। এটাকে আমরা একটা সেমিনারে সীমাবদ্ধ করে ফেলছি। যারা পরিবেশবান্ধব না থাকায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের কাছে বার্তা পৌঁছনো দরকার, যেমন বস্তি ও তৃণমূল এলাকায়। রাজনৈতিক দলগুলোর চাঁদাবাজি দূর হলেই পরিবেশ ফিরবে। যে বাসগুলো এই শহরে চলে পৃথিবীর খুব দরিদ্র দেশে চলে না। এগুলোও কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের ইশারায় চলে, এটা মুক্ত করা দরকার।’

পরিবেশবাদী সংগঠন মিশন গ্রীন বাংলাদেশ-এর পরিচালক সাংবাদিক কেফায়েত উল্লাহ শাকিল বলেন, ‘আসন্ন বর্ষাকাল, এই ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হচ্ছি প্রতিনিয়ত, গত ১৬ বছর ধরে এ বিষয় নিয়ে কথা বলে আসছি। কিন্তু কোনো সমাধনের পথ আসেনি। তাই, বলা যায়, রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা থাকলে পরিবেশ রক্ষা করা যাবে।’