স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১০টি নিজস্ব থানা ভবন উদ্বোধন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে ২৫টি থানার নিজস্ব ভবন নেই। এসব থানার নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১০টি থানার নতুন ভবন উদ্বোধন করা হবে। বাকি থানার নিজস্ব ভবন পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও পুলিশের আবাসনসহ তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।’

সোমবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে জাতীয় বার্তা সংস্থা-বাসসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে এটি আরো উন্নত হবে। পরিস্থিতি আরো উন্নত করার জন্য সরকার কাজ করছে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে আগের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা অনেক উন্নত হয়েছে, মানুষের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেক কমেছে। কিন্তু কাজ করতে হলে অর্থের প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ নিরসন, পুলিশি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া ও থানার সেবার মান আরো উন্নত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে রাজধানীর প্রতিটি থানা নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের চেষ্টা চলছে। আমাদের কাজ জনগণের সেবা করা। সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিনরাত কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত থানা ভবনগুলো মেরামত করা হবে। এছাড়া পুলিশের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের গাড়ির সঙ্কট রয়েছে এ সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্রে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন গাড়ি কেনার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক ও লোগো পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করা হবে। এছাড়াও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ও দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে। কথায় কথায় রাস্তায় নেমে এসে আন্দোলন করে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা ঠিক নয়।

থানা পরিদর্শন প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমি থানাগুলো পরিদর্শন করছি। পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- পুলিশের অধস্তন সদস্যদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কেমন তা নিজ চোখে দেখা।

পরিদর্শনকালে আমি দেখেছি, তাদের থাকার ব্যবস্থা খুবই নাজুক। কিভাবে এটিকে উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেজন্য বিভিন্ন থানা সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখছি। তাদের থাকা খাওয়ার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে পুলিশের কোনোরকম নিষ্ক্রিয়তা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সরকারের ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঈদের ছুটিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনী কর্মস্থলে ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা বিধানে সতর্ক থাকায় এবার ঈদ ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছেন এবং ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরেছেন। আগে পথে পথে চাঁদাবাজি চলত, গাড়ি থামানো হতো। সেটা কিন্তু এবার হয়নি। কেউ এটা করার সুযোগ ও সাহস পায়নি।

এবার ঈদযাত্রায় কোনো টিকিট কালোবাজারি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘরমুখো মানুষ সড়কপথের মতো ট্রেনযাত্রায়ও মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেক কম।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার সদস্যের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী টার্গেট এলাকায় জোরদার অপারেশন পরিচালনা করছে। ডিএমপি’র চেকপোস্ট মনিটরিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র : বাসস