আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য রেলওয়ে অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করেছে ১৪ মার্চ। পাশাপাশি বাসের টিকিটও বিক্রি শুরু হবে ১৪ মার্চ থেকে। অগ্রিম হিসেবে ২৫ মার্চ থেকে ঈদের আগে মোট সাত দিনের টিকিট বিক্রি করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঈদ সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অ্যাসোসিয়েশনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ জানান, ১৪ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিন একযোগ অনলাইনে এবং কাউন্টার থেকে বাসের টিকিট পাবেন যাত্রীরা। তবে অনেক পরিবহন এবার পুরোপুরি টিকিট অনলাইনে দেবে। ফলে দু’ জায়গায় টিকিট পাবেন যাত্রীরা।

ভাড়ার তালিকার বাইরে বাড়তি ভাড়া নেয়া যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী বাসের ভাড়া নেয়া হবে। মালিকদেরও সেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ঈদের সময় আমাদের মালিক সমিতির মনিটরিং টিম থাকবে টার্মিনালে, তারা কাজ করবে। নাইট কোচগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে ভিডিও করে রেখে তারপরে গাড়ি ছাড়ার একটা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অপরদিকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের ব্যাপারে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটি এবার ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর তারিখ প্রাথমিকভাবে ১৪ মার্চ ঠিক করেছে। ১ এপ্রিল ঈদুল ফিতর হবে ধরে নিয়ে তারা এই তারিখ নির্ধারণ করেছে। আগামীকাল রোববার দুপুরে ঈদ উপলক্ষে ‘সড়ক ও রেলপথে যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন’ করার লক্ষ্যে সভা ডেকেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত ওই সভা থেকেই রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমানে যাত্রার ১০ দিন আগে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়। ঈদ যাত্রার টিকিটও ১০ দিন আগে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া এবারো ঈদের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। কাউন্টারে কোনো ঈদের টিকিট বিক্রি করা হবে না। ফলে এবার বাড়তি আয়োজন নেই।

রেলের নেয়া প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুসারে, আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ১৪ মার্চ; ২৫ মার্চের টিকিট বিক্রির জন্য নির্ধারিত তারিখ ১৫ মার্চ; ২৬ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ১৬ মার্চ; ২৭ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে ১৭ মার্চ; ২৮ মার্চের টিকিট বিক্রি পাওয়া যাবে ১৮ মার্চ; ২৯ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৯ মার্চ এবং ৩০ মার্চের টিকিট পাওয়া যাবে ২০ মার্চ।

এ ব্যাপারে রেলের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, ‘তারা ১৪ মার্চ টিকিট বিক্রি শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন। রোববারের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘এবার ঈদযাত্রায় বিভিন্ন পথে পাঁচ জোড়া বা ১০টি বিশেষ ট্রেন চালুর পরিকল্পনা আছে।’

রেলওয়ে সূত্র আরো জানায়, গত বছর ঈদুল ফিতরে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের কমবেশি ৩০ হাজার আসনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। এবার আসন সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ট্রেনে বাড়তি কামরা যুক্ত করা হবে। উত্তরবঙ্গের পথে লাইনের সক্ষমতা না থাকায় বিশেষ ট্রেন চালানো কঠিন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ওই দিকে নতুন ট্রেনও চালু হয়নি। এবার ঈদে উত্তরের পথের ট্রেনগুলোতে বাড়তি কামরা যুক্ত করে আসনসংখ্যা বাড়ানো হবে।