ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, জাকাত দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিরা সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করলে এবং শরিয়াহ নির্ধারিত আটটি খাতে পরিকল্পিতভাবে তা বিতরণ করা হলে ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে পারে।
সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক (চট্টগ্রাম-১২)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যেসব নারী-পুরুষের নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ বা ‘নিসাব’ রয়েছে, তাদের যথাযথভাবে জাকাত প্রদান করা উচিত এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থার মাধ্যমে জাকাতের অর্থ নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী সব নারী-পুরুষ সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করলে এবং শরিয়াহ নির্ধারিত আটটি খাতে তা পরিকল্পিতভাবে বিতরণ করা হলে ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।’
দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসেবে জাকাতকে ব্যবহারের জন্য সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, বর্তমানে দেশের জাকাত ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের শহর, নগর ও গ্রামাঞ্চলে হাজার হাজার মাদরাসা ও এতিমখানা জাকাতের অর্থে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মন্ত্রী বলেন, তাই জাকাত ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে। আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, মাদরাসাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে গঠিত একটি সংস্কার কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশী-বিদেশী উৎস থেকে জাকাত সংগ্রহ সহজ করা এবং যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে চেকের মাধ্যমে তা দ্রুত বিতরণ নিশ্চিত করতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারি জাকাত ফান্ড এবং সামগ্রিক জাকাত ব্যবস্থার মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পাওয়া গেলে সরকারি জাকাত ফান্ড বিভাগ এবং সামগ্রিক জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ ও সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, শক্তিশালী জাকাত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এর সুফল বয়ে আনবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব দৃশ্যমান হবে।’ সূত্র : বাসস