ধানমন্ডিতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ঘটনাস্থলে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করায় ১০ জনকে পুরস্কৃত করেছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী। তাদের মধ্যে চারজন্য ধানমন্ডি থানার চার পুলিশ সদস্য ও ছয়জন ডাকাত ধরতে সহায়তাকারী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে তাদের প্রত্যেকের হাতে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার।
পুরস্কার প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন ধানমন্ডি থানার এএসআই মাসুদ পারভেজ, এএসআই আশরাফুল, কনস্টবল স্বপন মিয়া ও কনস্টবল রিকন বড়ুয়া।
ডাকাত ধরতে পুলিশকে সহায়তাকারী পুরস্কারপ্রাপ্ত ছয়জন হলেন ভবনের ড্রাইভার মো: বিজয়, ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো: রিয়াজুল ইসলাম এবং ওই ভবনে অবস্থিত এসএম সোর্সিং নামক প্রতিষ্ঠানের কর্মী মো: স্বপন ভূঁইয়া, মো: দেলোয়ার হোসেন, মো: সিয়াম ও মো: টনি।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার অপরাধীদের গ্রেফতারে পুরস্কারপ্রাপ্তদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের এ অনন্য সাহসিকতাপূর্ণ কাজ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ সফল হওয়া সম্ভব।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার ডাকাত ধরতে সহায়তাকারী ছয়জনকে পুলিশের অক্সিলিয়ারি ফোর্সে নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৬ মার্চ) ভোরে ভিকারুন্নেসা স্কুলের ধানমন্ডি শাখার গলির একটি ছয়তলা ভবনে র্যাব পরিচয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে থাকা ‘অলংকার নিকেতন জুয়েলার্স’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়ি, এসএম সোর্সিং অফিস ও কনসালটেন্সি অফিস থেকে ডাকাতরা প্রায় সাড়ে ৩৬ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ডাকাতরা ভবনের মালিক এম এ হান্নানকে জোর করে গাড়িতে উঠিয়ে অপহরণের চেষ্টা করে। ধানমন্ডি থানার একটি টহল টিম ওই বাড়ির সামনে হাজির হয়ে ডাকাতদের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে। ডাকাতরা এ সময় তাদের হাতে থাকা ছেনি ও রেঞ্জ দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে।
তাদের হামলায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। তখন আশপাশে থাকা লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। এ সংক্রান্তে ধানমন্ডি থানায় মামলা রুজু করা হয়। এ ডাকাতির ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে চারজন ও হাজারীবাগ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালানা করে উক্ত ডাকাতির সাথে জড়িত আবদুল্লাহ ও সুমনসহ সর্বমোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।