অবিলম্বে মব ভায়োলেন্স বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠন (সুজন)। সংগঠনটি বলছে, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে যে ‘মব ভায়োলেন্স’ শুরু’ হয়েছিল এখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সুজন’র সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান এবং সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘রোববার (২২ জুন) সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার উত্তরার বাসায় ঢুকে একদল লোক তাকে বাসা থেকে বের করে এনে নানাভাবে হেনস্তা করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তি যদি অভিযুক্তও হয় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা শুধু ফৌজদারি অপরাধই নয়, সংবিধানে ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। কোনো নাগরিক যদি কোনো কারণে সংক্ষুব্ধ হন, এর প্রতিকারের জন্য তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না।’

তারা বলেন, ‘শুধুমাত্র উপরিল্লিখিত বিষয়টিই নয়, একই দিনে লালমনিরহাটের গোশালা বাজারে একটি সেলুনে তুচ্ছ ঘটনার সূত্র ধরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দু’ নরসুন্দরকে (বাবা-ছেলে) লাঞ্ছিত করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। দু’টি ঘটনাতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

আমরা সুজন-এর পক্ষ থেকে এ সকল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় ‘মব ভায়োলেন্স’ ক্রমেই ‘মব কালচার’-এ পরিণত হবে। আশা করছি, সরকার ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়গুলোকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেবে এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।