বিমান টিকিটের নামে প্রতারণার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট (FEBD)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় সাতজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-১৩, তারিখ ১১ জুলাই ২০২৬।
মামলার আসামিরা হলেন ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট (FEBD)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন ও আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা দিতে শুরু করে। ২০১৯ সালে FEBD নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি ফ্ল্যাইট এক্সপার্ট ও FEBD—উভয় নামেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করত।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বি-টু-বি (Business to Business) এবং বি-টু-সি (Business to Consumer) উভয় পদ্ধতিতে বিমান টিকিট বিক্রি করত। বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হলেও নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ করা হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দেশত্যাগ করেন।
সিআইডি জানায়, FEBD-এর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ পরে ফ্ল্যাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। একইসাথে বিভিন্ন আইএটিএ (IATA) অনুমোদিত ট্রাভেল অ্যাজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করা হলেও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ মূল্য নেওয়ার পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরে বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে সেই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত সংস্থাটিই পরিচালনা করবে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।