বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শিক্ষক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে তিনি একইসাথে এমপিও সুবিধা ও জনপ্রতিনিধির সম্মানী ভাতা এ দুটো একসাথে গ্রহণ করতে পারবেন না বলে স্পষ্ট করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

সম্প্রতি মাউশি’র জারি করা এক আদেশে এ কথা জানানো হয়।

আদেশে আরো বলা হয়েছে, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীর একই সময়ে দুইটি লাভজনক পদ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে তাকে এমপিও বেতন-ভাতা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য হিসেবে প্রাপ্য সম্মানী যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাঠানো এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সামনে আসে।

আবেদনে বলা হয়, বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার আদমদিঘী ঈশ্বরপূর্ণ জয় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদুর রহমান নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার ৪ নম্বর পারইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ভাতা পাওয়ার বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর আইন শাখার মতামত গ্রহণ করে।

অধিদফতরের আইন উপদেষ্টা লিখিত মতামতে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একই সময়ে এমপিও সুবিধা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সম্মানী-দুই ধরনের আর্থিক সুবিধা একসাথে গ্রহণ করতে পারবেন না। তিনি হয় এমপিও গ্রহণ করবেন, অথবা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাপ্য সম্মানী গ্রহণ করবেন।

আইন শাখার এ মতামতের ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, জাহিদুর রহমান যদি এমপিও সুবিধা গ্রহণ অব্যাহত রাখেন, তাহলে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো সম্মানী ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না।

একইভাবে চেয়ারম্যানের সম্মানী গ্রহণ করতে চাইলে তাকে এমপিও সুবিধা ত্যাগ করতে হবে।

অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনগত মতামতের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মাউশি কর্মকর্তারা জানান, এ স্পষ্টীকরণের ফলে ভবিষ্যতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলে তাদের আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে বিদ্যমান আইনি অবস্থান আরো পরিষ্কার হবে। সূত্র : বাসস