ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান ও মো: এনামুল হককে সদর দফতরে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষে জয়েন্ট কমিশনার সুমন দাশ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলি কার্যকর করা হয়।

বদলির আদেশে বলা হয়েছে, উল্লিখিত কর্মকর্তাদেরকে আগামী ২৪ আগস্ট পূর্বাহ্নে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। পাশাপাশি অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম ব্যবহারের জন্য প্রদত্ত আইডি ও পাসওয়ার্ড বন্ধ করে জনপ্রশাসন শাখাকে অবহিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে চোরাচালান ছাড়ের গুরুতর অভিযোগ উঠে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কাস্টমস হাউসের ভেতরে চোরাচালান ও দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছেন মাজেদ ও এনামুল। তাদের সাথে সিনিয়র আরো কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে গড়ে উঠেছে একচ্ছত্র চোরাচালান সিন্ডিকেট।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য খালাস নেয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-১ দিয়ে কমার্সিয়াল পণ্যের চালানের আড়ালে নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরাতন ল্যাপটপ, শর্তযুক্ত মোবাইল ফোন, মেডিসিন, ড্রোন, ওয়াকিটকি এবং উচ্চ শুল্কের মোবাইল এলসিডি ও সানগ্লাস ভিআইপি মর্যাদায় খালাস দেয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে কোনো ঘোষণা বা আমদানি শর্ত মানা হচ্ছে না।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন সরকার ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বাজার ভরে যাচ্ছে অবৈধ ও নিষিদ্ধ পণ্যে, যার ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় হেরে যাচ্ছেন। ফাঁকিকৃত রাজস্বের অর্থ চলে যাচ্ছে অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির সিদ্ধান্তকে কাস্টমস প্রশাসনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও প্রশাসনিক পর্যায়ে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।