চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে দুর্ঘটনায় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস নিঃসরণে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়িত্বে অবহেলার বিভিন্ন বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে।

এজন্য প্রচলিত আইনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে, তবে শাস্তি কী হবে, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা নির্ধারিত হবে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ট্যাংকে ছিদ্র করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ হয়। গ্যাসটির তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, এর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে চেতনা হারিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় প্রায় ১০ জনের মৃত্যু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, অতিরিক্ত সচিব একেএম বেনজামিন রিয়াজী, ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ইয়াসির আরাফাত খানসহ কমিটির অন্যন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক থেকে হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো প্রাণঘাতী গ্যাস নিঃসরণ করে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে- এ বিষয়টি শিল্পখাতের কাছে আগে তেমনভাবে জানা ছিল না। এ দুর্ঘটনা তাই সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশও তদন্ত প্রতিবেদনে করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সরকার সংশ্লিষ্ট সমিতির সাথে যোগাযোগ করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। একইসাথে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সমিতি সরকারকে অবহিত করে।

মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পরদিন সকাল থেকেই রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে দুপুর থেকে সেনাবাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রাখে, যাতে নতুন করে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। গ্যাসের নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়।

এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণের পাশাপাশি কোথায়-কোথায় অবহেলা ছিল, তাও চিহ্নিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, রিসাইক্লিং শিল্প এখনো বিকাশমান। কয়েক বছর আগেও এ শিল্পের অবস্থা ছিল অনেকটা প্রাথমিক পর্যায়ের। বর্তমানে দেশের কয়েকটি রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন সার্টিফিকেশন পেয়েছে এবং আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো দুর্ঘটনা বা ঘটনার প্রকৃত তথ্য স্বচ্ছতার সাথে জনগণের সামনে তুলে ধরতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার প্রতিবেদন প্রকাশ করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রচলিত আইনে যে শাস্তি প্রাপ্য, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারই ব্যবস্থা হবে।

তিনি বলেন, ‘শাস্তি কী হবে, তা আমরা নির্ধারণ করে দিতে পারি না। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা নির্ধারিত হবে।’