জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে এ মামলায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।

এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে, এসআই আমীর হোসন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরীফুল ইসলাম এবং তৎকালীন সময়ে বেরোবির ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সে অনুযায়ী আজ বুধবার তাদের হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আদেশের বিষয়ে প্রসিকিউটর মীযানুল ইসলাম বলেন, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চারজনকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তাদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। এই মামলায় পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগের হেলমেটবাহিনীও আছে। ২৬ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। আমরা আরো যাচাই-বাছাই করছি। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, পরবর্তী ধার্য তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।

তিনি বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালে বলেছি যে আমাদের ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রথমিকভাবে প্রমাণ হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করছি। আমরা আশা করছি, দু’মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে সক্ষম হব।

তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হওয়ার আগে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় রংপুরে আরো দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর একটি তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার দেখেছি। একটি টিভি চ্যানেল সম্ভবত লাইভ সম্প্রচার করেছিল। তাতে দেখা যাচ্ছে পুলিশ আবু সাঈদকে গুলি করছে। আর পুলিশ অফিসার যিনি মামলা করেছেন তাতে বলছে মাথায় আঘাতে মারা গেছে। ছাত্র-জনতাকেই আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলা ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর আবু সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। দু’টি মামলাই ওখানে আছে।

প্রসিকিউটর মীযানুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের এমন কোনো বাদ্যবাধকতা নেই যে ওই মামলার ওপর নির্ভর করে আমাদের তদন্ত করতে হবে, বা ওই মামলার বাইরে আমরা নিতে পারব না, বা ওই মামলা নিতে পারব না। আমাদের তদন্ত দ্রুত গতিতে চলছে। তবে ওই মামলার সকল আসামি যদি এখানে আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয় তা হলে স্বাভাবিক ওই মামলাটা ওখানে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাইদ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এ ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন সাবেক এসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। আর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ কর্মী এমরান চৌধুরী আকাশসহ আরো অনেকে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন। অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা ওই আসামিদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন জানায় প্রসিকিউশন।