স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে (এলজিইডি) অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সহকারী প্রকৌশলীর ১৫৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) বিগত ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ‘দৈনিক ইনকিলাব’ ও ২১ ডিসেম্বর ‘দ্যা ডেইলি স্টার’ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর ২০১২ সালে এবং এর আরো কিছুদিন পরে এই বিজ্ঞপ্তির আলোকে দু’দফায় নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৮২ জন সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
অভিযোগ ওঠে, দীর্ঘ ছয় বছর পর সরকারি কর্ম কমিশন লিখিত পরীক্ষা নিলেও অধিকতর প্রতিযোগীতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য কোনো পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। ফলে ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন হাজার হাজার প্রকৌশলী পাশ করলেও তারা প্রথম শ্রেণির এই চাকরি প্রাপ্তির প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ হতে বঞ্চিত হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময়ের মধ্যে পাশ করা বঞ্চিত একজন প্রকৌশলী আইনগত প্রতিকার চেয়ে সংবিধানের ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর-৮৭২৭/২০২৫) দায়ের করেন।
হাইকোর্ট তার রিট পিটিশনটি আমলে নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক (১) ১০.০৬.২০১৩ তারিখে ৪৬.০৬৭.০০১.০০.০০.০১১.২০১৩-৩৫২ নম্বর স্মারকে, (২) ১৬.০৮.২০১৬ তারিখে ৪৬.০৬৭.০০১.০০.০০.০১১.২০১৩-৬৮৭ নম্বর স্মারকে এবং (৩) ২৭.১২.২০১৬ তারিখে ৪৬.০৬৭.০০১.০০.০০.০১১.২০১৩-১০৬৫ নম্বর স্মারকে মোট ৮২ জন সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন বাতিলের জন্য সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগকে কারণ দর্শানোসহ রুলনিশি জারি করেন এবং একইসাথে ছয় মাসের মধ্যে রিট পিটিশনারের লিখিত আবেদন আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করার আদেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে যে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল তার বিজ্ঞপ্তি হয় ২০০৬ সালে। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছর পরে পিএসসি যখন নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে তখন অর্থাৎ ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাদেরকে সুকৌশলে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এ কাজে বিপুল টাকার বিনিময় হয় বলে অভিযোগ। সেই পরীক্ষায় ১৫৪টি শূন্য পদের বিপরীতে এক হাজার ৮৩৩ জন আবেদনকারীর মধ্যে বৈধ আবেদন ছিল এক হাজার ৫১৮টি। লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মাত্র ৩৫২ জন, আর উত্তীর্ণ হয় ১৬২ জন। অর্থাৎ একটি শূন্য পদের বিপরীতে একজন উত্তীর্ণ হয়।
অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১২৭ জন এবং ১২৭ জনই কৃতকার্য হয়। অর্থাৎ শূন্য পদের চেয়েও কম পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। তৈরি করা হয় ৭৮ জনের একটি প্যানেল। পিএসসির সুপারিশ ও সরকারের বিভিন্ন অ্যাজেন্ট দিয়ে ভেরিফিকেশনে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে এ পরীক্ষা থেকে যোগদান করেন ৫২ জন প্রকৌশলী।
অভিযোগ রয়েছে, সব নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাড়ে তিন বছর পর অর্থাৎ ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট ও ২৭ ডিসেম্বর উল্লেখিত প্যানেলের বাইরে হতে আরো (২৬+৫) ৩১ জনসহ মোট ৮২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পিএসসির সুপারিশপত্রে উল্লেখ রয়েছে প্যানেলের মেয়াদ হবে এক বছর। এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো পদ শূন্য হয় তবে প্যানেল ভুক্তদের মধ্য হতে শূন্য পদ পূরণ করা যাবে। এই অনিয়মে পিএসসি এবং এলজিইডি সিন্ডিকেটের যোগসাজশের বিষয়টি এখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।