বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানের ১৩ বছর কারাদণ্ডের সাজা বাতিল করে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সাথে তার স্ত্রী সাবেরা আমানকেও খালাস দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমান খালাস পেয়েছেন। দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে এই দু’জনের করা আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করা হয়েছে।

এ মামলায় খালাস পাওয়ায় আমানউল্লাহ আমানের ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এর আগে, শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজ ৩০ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আদালতে সেদিন আবেদনের পক্ষে শুনানি শুরু করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান।

আলোচিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’র সময় ২০০৭ সালের ২১ জুন বিশেষ জজ আদালতের রায়ে আমানকে ১৩ বছরের ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০২৩ সালের ৩০ মে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল পুনঃশুনানি শেষে তাদের দণ্ড বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। রায় পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ-১ এর বিচারক আবুল কাশেম।

তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। একই সাথে জামিন আবেদনও করেন। তবে আপিল বিভাগ ৪ ডিসেম্বর তাকে জামিন না দিয়ে লিভ টু আপিলের শুনানি করতে বলেন। সে অনুসারে শুনানি শেষে ১৪ জানুয়ারি লিভ টু আপিল মঞ্জুর করা হয়।

এ অবস্থায় আবারো তিনি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে গত বছরের ২০ মার্চ আমানকে জামিন দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমান দম্পতির বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। ওই বছরের ২১ জুন বিশেষ জজ আদালতের রায়ে আমানকে ১৩ বছরের ও সাবেরাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে তাদের খালাস দেন।

পরে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ২৬ মে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। একই সাথে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়া হয়।

আপিল বিভাগের এই রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন করেন আমান। পরে সে আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এরপর হাইকোর্ট বিভাগে ফের শুনানির পর সস্ত্রীক আমানের দণ্ড বহাল রাখা হয়।