রাজধানীর খিলক্ষেতে শনিবার মধ্যরাতে ধর্ষণের অভিযোগে যে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, তাতে এখন পর্যন্ত দু’টি মামলা হয়েছে এবং পৃথক এই দুই মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে, দুপুরে খিলক্ষেত থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে কথা হয়। তিনি গতকাল রাতের ঘটনা সম্পর্কে জানান, খিলক্ষেতের মধ্যপাড়া এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরকে মারপিট করছিলেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।
খবর পেয়ে অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছিল পুলিশ। কিন্তু থানায় নেয়ার পথে স্থানীয় অনেক মানুষ একত্রিত হয়ে ওই কিশোরকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার মারধর করে। সেইসাথে, তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙ্গে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের পাশাপাশি অনেক পুলিশ সদস্যও আহত হন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর গুরুতর আহত হলে তাকে রাত ১টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ার আজ বুধবার ভোরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে ছয় বছরের একটি মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ করেছে। শিশুটিকেও প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তাকেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
খিলক্ষেত থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, গতকালের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছে মেয়ে শিশুটির বাবা। আর অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের গায়ে হাত তোলার কারণে পুলিশও অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেছে।
‘অভিযুক্ত আমাদের সাথে ছিল, সে ধর্ষণ মামলার আসামি। বাকি দু’জন পুলিশের গায়ে আঘাতের আসামি’ জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি