বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর এক হাজার ওষুধের নিবন্ধন ঝুলিয়ে রেখেছে। এই ওষুধগুলোর বেশিভাগই উন্নত দেশগুলোতে সবেমাত্র এসেছে।

শনিবার বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্যদের সাথে এ বিষয়ক মত বিনিময় সভায় বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে মহাসচিব ডা: মুহাম্মদ জাকির হোসেন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে কমিটি নতুন ওষুধের নিবন্ধন সেই ড্রাগ কনট্রোল কমিটির (ডিসিসি) গত দুই বছর যাবত সভাও হয় না, দেশের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিকেল কোম্পানি থেকে জমা দেয়া ওষুধগুলোর অনুমোদনও হয় না। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে জমা দেয়া ওষুধগুলোর নিবন্ধন না দিতে পারলে এগুলো বহুজাতিক কোম্পানির প্যাটেন্ট আইন ও মেধাস্বত্ব অধিকার (ট্রিপস) আওতায় পড়ে যাবে। কারণ বাংলাদেশের এলডিসি গ্রাজুয়েশন ২০২৬ সালের নভেম্বরের পর থেকে শুরু হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, ‘নোভেলটি কনভেনশন’ নামক আরেকটি আন্তর্জাতিক আইনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করায় মেধাস্বত্ব বিষয়ক আইনটি চলতি বছরের নভেম্বরের পর থেকেই কার্যকর হবে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি উর্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো চলতি বছরের নভেম্বরের আগেই নিষ্পত্তি করে ফেলতে হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে।

এ ব্যাপারে জাকির হোসেন বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে জমা দেয়া ওষুধগুলোর নিবন্ধন নভেম্বরের মধ্যেই দিতে না পারলে অনেক কোম্পানি ওইসব ওষুধের নিবন্ধন নিতে আগ্রহবোধ করবে না। কারণ মেধাস্বত্ব অধিকার (ট্রিপস) প্রয়োগ হলে এসব ওষুধের জন্য ওষুধটির মূল কোম্পানি রয়্যালটি দাবি করবে। ডলারে রয়্যালটির অর্থ পরিশোধ করার পর বাংলাদেশে ওই ওষুধগুলো তৈরি করা হলে সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। রয়্যালটি পরিশোধ করে কোনো কোম্পানি ওষুধ তৈরি করলে এর দাম যেমন অনেক বাড়বে, তেমনি আকাশ ছোঁয়া দামে এদেশের বেশিভাগ মানুষ ওষুধ কিনতে পারবে না। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে জমা ওষুধগুলোর আগামী নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন দিয়ে দিতে পারলে মেধাস্বত্ব অধিকারের আওতায় পড়বে না।

এ ব্যাপারে ওষুধ শিল্প সমিতি বলছে, নিবন্ধনের জন্য জমা সবগুলো ওষুধের এখনই বাজারজাত করার অনুমতি দেয়ার প্রয়োজন নেই। বাজারজাত করার অনুমতি দেয়ার ব্যাপারটি সময় সাপেক্ষ। অনেকগুলো পর্যায় অতিক্রম করে কোনো ওষুধ বাজারজাত করার অনুমতি পায়। ওষুধ উৎপাদনকারীরা এই মুহূর্তে ওসুধগুলোর শুধু নিবন্ধ চাচ্ছে, পরে তারা বাজারজাত করার অনুমতি নেবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। গত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে ওষুধ কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের সাথে আালোচনা না করেই নোবেলটি কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। ফলে বাংলাদেশে ওষুধের ক্ষেত্রে এলডিসি গ্রাজুয়েশন ২০২৬ সালের নভেম্বরে না হয়ে এক বছর আগেই কার্যকর হবে বলে ওষুধ সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ওষুধ রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে আগামী নভেম্বরের মধ্যে যেসব বহুজাতিক ওষুধের নিবন্ধন করা হবে সেই ওষুধগুলো প্যাটেন্ট অধিকার অথবা মেধাস্বত্ব অধিকারের আওতায় পড়বে না।

ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব বলেন, যে ওষুধগুলো ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে নিবন্ধনের জন্য জমা দেয়া হয়েছে সেই ওষুধের সবগুলো নিবন্ধন হলে আগামী ১৫ বছর নতুন কোনো ওষুধের নিবন্ধন না হলেও চলবে। এগুলো দিয়েই বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা মেটানো সম্ভব এবং একই সাথে বিদেশে রফতানিও করতে পারবে। আর এর মধ্যে বাংলাদেশ গবেষণা ও উন্নয়নের (আরঅ্যান্ডডি) মাধ্যমে ওষুধের কাঁচামাল বা এপিআই উৎপাদনে স্বংসম্পূর্ণ হয়ে যেতে পারবে। তখন হয়তো বিদেশী ওষুধ কোম্পানির তৈরি করা প্যাটেন্টেড ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাথে মত বিনিময়ে ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন- ওষুধ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন ও সৈয়দ কায়সার কবীর, ওষুধ শিল্প সমিতির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, ওষুধ শিল্প সতিরি কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ হালিমুজজামান। বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের পক্ষ থেকে ছিলেন সভাপতি রাশেদ রাব্বি, সেক্রেটারি মাইনুল হাসান সোহেল প্রমুখ।