মালদ্বীপের বাংলাদেশ দূতাবাসে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে এ উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে সমবেতকণ্ঠে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো: সোহেল পারভেজ।

এরপর দূতাবাস হলরুমে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হাইকমিশনার।

এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ও সামাজিক, রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধিসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাস মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে যেসব অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন দিয়েছেন ও জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত সব শহিদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

এসময় মালদ্বীপে অবস্থানরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের তিনি মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছাও জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নামক এ রাষ্ট্রের জন্ম ও রাষ্ট্রের অগ্রগতি বিশেষ করে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অসামান্য ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়াও তিনি মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ডক্টর মোহাম্মদ মুইজ্জ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর আবদুল্লাহ খলিল কে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি তাদের শুভেচ্ছাবার্তা প্রদানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে, মিশনের তৃতীয় সচিব মো: জিল্লুর রহমান, কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান ও কনস্যুলার সহকারী ময়নাল হোসেন। এসময় জুলাই আপরাইজিং শীর্ষক একটি প্রামাণ্য চিত্র ‘আধার পেরিয়ে’ বড় পর্দায় প্রদর্শন করেন।

মিশনের কনস্যুলার সহকারী ইবাদ উল্লাহ’র সঞ্চালনায় বিএনপি মালদ্বীপ শাখার যুগ্ম সম্পাদক রবিউল আলম বলেন, আমরা এগোই একরাশ ভালোবাসা ধারণ করে। প্রবাসেও এক খণ্ড বাংলাদেশের গর্বকে সাথে নিয়ে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মালদ্বীপ শাখার প্রচার সম্পাদক খলিলুর রহমান শাহাজী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ২৫ মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত জঘন্যতম গণহত্যার এখনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশ। এবার গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচারের দাবিও জানান বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে দেশ ও প্রবাসে সকলকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করারও আহ্বান জানান বাংলাদেশ হাইকমিশনার।